শিরোনাম
অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে : জাতিসংঘে আইরিন খানস্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমেই সুস্থ প্রজন্ম গড়ে ওঠে: মীর শাহে আলমফের দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের গোলাবর্ষণবিদ্যুৎখাতে লুটপাট করতেই দায় মুক্তির আইন পাস করেছিল আ.লীগ: রিজভীসিইসির সঙ্গে বৈঠকে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধি দলযুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের আগে ভিসার নিয়মকানুন জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির দূতাবাসনাগরিক না হয়েও নির্বাচনে ভোট দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে মামলারপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীঅর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে : জাতিসংঘে আইরিন খানস্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমেই সুস্থ প্রজন্ম গড়ে ওঠে: মীর শাহে আলমফের দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের গোলাবর্ষণবিদ্যুৎখাতে লুটপাট করতেই দায় মুক্তির আইন পাস করেছিল আ.লীগ: রিজভীসিইসির সঙ্গে বৈঠকে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধি দলযুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের আগে ভিসার নিয়মকানুন জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির দূতাবাসনাগরিক না হয়েও নির্বাচনে ভোট দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে মামলারপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

ইউটিউব দেখে আঙুর চাষে সফল তরুণ

মীর বাবুল, ময়মনসিংহ

প্রকাশ : ৯ মে ২০২৬, ৪:০৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : ভোরের আকাশ
ছবি : ভোরের আকাশ

ময়মনসিংহের ভালুকায় এক তরুণের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এখন স্থানীয়ভাবে আলোচনার কেন্দ্রে। 

কোনো কৃষি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউব থেকেই আঙুর চাষের আধুনিক কৌশল শিখে বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়েছেন মো. মোকছেদুল ইসলাম। গার্মেন্টসে কাজ করে জমানো অর্থে গড়ে তুলেছেন নিজের স্বপ্নের আঙুর বাগান, যেখানে এখন ফলছে অন্তত ২০ জাতের আঙুর।

ভালুকা উপজেলার মল্লিকবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মোকছেদুল ইসলাম স্থানীয় মসজিদের ইমাম মো. খুরশেদ আলমের ছেলে। সম্প্রতি কামিল (মাস্টার্স) পরীক্ষা দিয়েছেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই কৃষির প্রতি আগ্রহ থাকলেও জীবিকার প্রয়োজনে ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত একটি গার্মেন্টস কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। 

সেই কষ্টার্জিত সঞ্চয়ই আজ তার কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার মূল ভিত্তি।২০২২ সালে শখের বশে মাত্র দুটি আঙুর গাছ লাগান মোকছেদুল। শুরুতে ধারণা ছিল, দেশে উৎপাদিত আঙুর হয়তো খুব বেশি মিষ্টি হবে না। কিন্তু ফল পাওয়ার পর তার ধারণা বদলে যায়। এরপরই ফেসবুক, ইউটিউব ও বিদেশি চাষিদের ভিডিও দেখে শুরু করেন বিস্তারিত গবেষণা।

ধীরে ধীরে বিভিন্ন জাতের আঙুর সংগ্রহ করে বাড়ির সামনে পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করেন। পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ার এক বাগানির ভিডিও দেখে নিজেই রপ্ত করেন চারা উৎপাদনের কৌশল। সফল ফলন পাওয়ার পর আশপাশের মানুষের আগ্রহ ও প্রশংসাই তাকে বাণিজ্যিক চাষে উদ্বুদ্ধ করে।

বর্তমানে বাড়ির পেছনের ১৪ শতক জমিতে ১৮০টি আঙুর গাছ নিয়ে গড়ে তুলেছেন একটি সুপরিকল্পিত বাগান। সেখানে রয়েছে ভ্যালেজ, ডিক্সন, গ্রিন লং, একেলো, ব্ল্যাক রুবি, বাইকুনুর ও সামার ব্ল্যাকসহ অন্তত ২০ জাতের আঙুর। ডালভর্তি থোকা থোকা আঙুর এখন নজর কাড়ছে দর্শনার্থীদের।

মোকছেদুল ইসলাম জানান, বাগান তৈরিতে এখন পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। চলতি বছর প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে ফল সংগ্রহ করছেন তিনি।

তার ভাষায়, “গার্মেন্টসে কাজ করে ধীরে ধীরে টাকা জমিয়েছি। এবার ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে আঙুর বিক্রির আশা করছি। পাশাপাশি চারা বিক্রি থেকেও ভালো আয় হবে।”

বর্তমানে তার বাগানে উৎপাদিত চারা প্রতিটি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।তবে আঙুর চাষে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে তিনি দেখছেন অতিরিক্ত বৃষ্টিকে। ফল পাকার সময় বৃষ্টি হলে আঙুরে পচন দেখা দেয়। এ সমস্যা সমাধানে বিদেশি প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

মোকছেদুল বলেন, “বিদেশে পলি নেট হাউস ব্যবহার করে আঙুর চাষ করা হয়। এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে দেশে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।”তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন আশপাশের মানুষ। 

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলম মিয়া বলেন, “এত জাতের আঙুর একসঙ্গে আগে দেখিনি। খেতেও খুব সুস্বাদু।”

এনজিওকর্মী মো. শাহীনুর আলম বলেন, “দেশে এত মিষ্টি আঙুর উৎপাদন সম্ভব, এটা না দেখলে বিশ্বাস হতো না।”

স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রাশেদুজ্জামান জানান, নিয়মিত কৃষি পরামর্শের মাধ্যমে বাগানটি তদারকি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “স্বল্প পরিসরের জমিতেও ভালো ফলন পাওয়া গেছে। আঙুর এ অঞ্চলের জন্য সম্ভাবনাময় একটি ফল।”

ভালুকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান বলেন, “এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া ফল চাষের জন্য উপযোগী। গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে আঙুর চাষে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।”

ফেসবুক-ইউটিউব থেকে শেখা জ্ঞান, গার্মেন্টসের কষ্টার্জিত অর্থ এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা মোকছেদুল ইসলামের এই আঙুর বাগান এখন অনেক তরুণের জন্য অনুপ্রেরণার নাম। 

আরও পড়ুন

কোরবানির ঈদ ঘিরে গাইবান্ধায় আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ‘লালবাবু’

তার গল্প যেন প্রমাণ করে—শেখার আগ্রহ আর পরিশ্রম থাকলে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সফল হওয়া সম্ভব।

ভোরের আকাশ/ র.ই


 

ইউটিউবমোকছেদুল ইসলাম

শেয়ার করুন: