ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে এক কিশোরীকে (১৪) আটকে রেখে সংঘবদ্ধভাবে পাশবিক নির্যাতন চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে।
বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই কিশোরী ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেন। এর আগে গত ১০ জুন আশুগঞ্জ উপজেলা সদরের কলাবাগান এলাকায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে।
সূত্র জানায়, নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরীর পরিবার মূলত কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার খাউজি গ্রামের বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে তারা দীর্ঘদিন ধরে আশুগঞ্জের কলাবাগান এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১০ জুন) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ওই কিশোরী বাসা থেকে সামান্য দূরে একটি দোকানে রুটি কিনতে যায়। পথে স্থানীয় যুবক জাকারিয়া ও অনিকসহ ৩ জন তার পথরোধ করে। পরে তাকে জোরপূর্বক পাশের একটি বহুতল ভবনের ৫ তলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হাত-পা বেঁধে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়।
ঘটনার পর পর অপরাধীরা বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য কিশোরীকে চাপ দেয় এবং তার বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেয়। চরম ভীতি ও আতঙ্কের কারণে কিশোরী প্রথমে বিষয়টি চেপে গেলেও দু'দিন পর প্রচণ্ড শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে সে তার মায়ের কাছে পুরো ঘটনাটি খুলে বলে।
আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল আলম চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে কথা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাক্তার রতন কুমার ঢালি জানান, ভুক্তভোগী ওই কিশোরী হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে। তার শারীরিক পরীক্ষা নিরিক্ষার রিপোর্ট পেলে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ভোরের আকাশ/ র.ই