সাপাহারে গোপনে ৪ পদে নিয়োগ বাণিজ্য

নওগাঁর সাপাহার উপজেলার গোয়ালা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী হাঁপানিয়া কে এম ফাজিল মাদ্রাসায় সরকারি নিয়মনীতি ও বিধিবিধান বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গোপনে চারজন কর্মচারী নিয়োগের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন শিরাজী এবং ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব রিয়াজের বিরুদ্ধে যোগসাজশ করে প্রায় ৫৬ লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার সচেতন মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত শুক্রবার সরকারি ছুটির দিনকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির অধিকাংশ সদস্যকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে মাদ্রাসার ৪টি শূন্য পদে (অফিস সহকারী, ল্যাব সহকারী-রসায়ন, ল্যাব সহকারী-পদার্থ ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী) একটি পাতানো নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সহ-সভাপতি আলহাজ্ব রিয়াজের প্রত্যক্ষ দাপটে ও অধ্যক্ষের সার্বিক সহায়তায় এ গোপন নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হয়। সরেজমিনে অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, নিয়োগপ্রাপ্ত চার প্রার্থীর কাছ থেকে মোট প্রায় ৫৬ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে এ প্যানেল চূড়ান্ত করা হয়েছে।
নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বঞ্চিত প্রার্থী শহিদুল, আব্দুল কাইয়ুম ও আব্দুল আউয়ালসহ একাধিক পরীক্ষার্থী চরম অনিয়ম ও গোপনীয়তার প্রতিবাদে পরীক্ষা বয়কট করেন। তাঁরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, "নিয়োগ পরীক্ষাটি ছিল স্রেফ একটি আইওয়াশ বা লোকদেখানো নাটক। পূর্ব থেকেই মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রার্থী চূড়ান্ত করে রাখা হয়েছিল।" তাঁদের দাবি, বেআইনি আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অফিস সহকারী পদে ইমরান আলী, ল্যাব সহকারী (রসায়ন) পদে আবু যার গিফারি, ল্যাব সহকারী (পদার্থ) পদে নাহিদা আক্তার এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে মোঃ সিমাযুলকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ (ভাইস প্রিন্সিপাল) মাওলানা তোজামেল হক বলেন, "আমাকে বা অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দকে বিন্দুমাত্র না জানিয়ে সম্পূর্ণ গোপনে এই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। যদি তাঁদের মধ্যে কোনো অনৈতিক আর্থিক লেনদেন বা দুর্নীতি হয়ে থাকে, তবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা উচিত। আমাদের স্পষ্ট দাবি—অবিলম্বে এই অবৈধ ও বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করে শতভাগ স্বচ্ছতার সহিত পুনরায় নতুন পরীক্ষার আয়োজন করতে হবে।"
সংবাদের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন শিরাজী ও সহ-সভাপতি আলহাজ্ব রিয়াজের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের ব্যবহৃত সংযোগগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। জালিয়াতি ও স্বজনপ্রীতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তাঁরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় অভিভাবক, গোয়ালা ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকেরা একাত্ম হয়ে হুশিয়ারি দিয়ে জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ রক্ষা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই প্রহসনের নিয়োগ দ্রুত বাতিল করতে হবে। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া না হলে পরবর্তীতে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ জানান, "মাদ্রাসার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যেকোনো প্রকার অনিয়ম, গোপনীয়তা বা দুর্নীতির লিখিত কিংবা মৌখিক প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হবে। তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে বিতর্কিত এই নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
ভোরের আকাশ/ এনউব