সিরাজদীখানে প্রস্তুত ৬ হাজার কোরবানির পশু

কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে শেষ মুহুর্তে পশু পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার সিরাজদীখান উপজেলার খামারিরা।
প্রতি বছরের মতো এবারো খামারিরা সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে গরু, ছাগল,মহিষ ও ভেড়া মোটাতাজা করেছেন। মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগ ছাড়াই দেশীয় পদ্ধতিতে খাবার খাইয়ে মোটাতাজা করা এসব পশু বিক্রি করে লাভবান হওয়ার আশাবাদী তারা।
সিরাজদীখান উপজেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঈদকে সামনে রেখে উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নে ছোট-বড় প্রায় ১২৯৩ খামারি দেশীয় পদ্ধতিতে গরু,ছাগল,মহিষ ও ভেড়াসহ প্রায় ৬০৭৬ টি পশু মোটাতাজা করেছেন।
দেশের বিভিন্ন হাট থেকে গরু কিনে ৬ মাস ও ১ বছর আগে থেকে গবাদি পশু লালন শুরু করেন খামারিরা। গরু ছাগল মিলিয়ে সিরাজদীখানে মোট ৫৮৫৫ টি পশুর চাহিদা রয়েছে। ১৪ টি ইউনিয়নে ১২৯৩ খামারে যে পরিমান পশু রয়েছে তা প্রায়ই চাহিদার সমান ।
তবে প্রতিবছর ভারত ও মিয়ানমার থেকে ঈদের আগেই বিপুল পরিমাণ গরু দেশে প্রবেশ করায় ন্যায্য মূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়া নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেক খামারিরা ।
বৃহস্পতিবার উপজেলার কয়েকটি পশু খামার ঘুরে দেখা গেছে, খামারিরা রাত-দিন গরু পরিচর্চায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেক ক্রেতাই ইতোমধ্যে খামারে গিয়ে তাদের পছন্দের গরু বাচাই করে কিনে খামারেই রেখে আসছেন।
মালখানগর ইউনিয়নের ফুরসাইল গ্রামের - মেসার্স রাহাত এগ্রো ফার্মের মালিক তুহিন আহমেদ হৃদয় জানান, ‘এবার আমার খামারে দেশিয় জাতের ৩২ টি গরু পালন করা হয়েছে। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে এসব গরু মোটাতাজা করা হয়েছে।
দেশীয় গরুর চাহিদা থাকায় এরমধ্যে খামার পরিদর্শনে আসছেন ক্রেতারা। অনেকে খামার থেকেই গরু কিনে নেয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। ১ লক্ষ ৩০হাজার টাকা থেকে ৪ লাখ টাকা দামের পর্যন্ত গরু রয়েছে আমার খামারে ।
কেয়াইন ইউনিয়নের বড়বর্তা গ্রামের মায়ের দোয়া খামারের মালিক সেকুল শেখ বলেন, ঈদের আর বেশি দিন বাকি না থাকায় গরু যত্ন নিয়েই এখন ব্যস্ত সময় পার করছি। আমার খামারে ৮০ টি গরু কোরবানীর জন্য প্রস্তুত করেছি।
তবে এইর মধ্যে খামার থেকে ১০ টি গরু বিক্রি হয়ে গেছে । প্রত্যেকটি গরুকে কাঁচা ঘাস, খড়, তিলের খৈল, ছোলার খৈল, মসুুরী ডালের খৈল, মটরসহ বিভিন্ন ধরণের প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হয়েছে। আমার খামারে গরুর দাম ৮০ হাজার টাকা থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত রয়েছে ।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা.শবনম সুলতানা জানান,,‘ঈদকে সামনে রেখে উপজেলায় ছোট-বড় ১২৯৩ জন খামারি দেশীয় পদ্ধতিতে ৬০৭৬ টি পশু মোটাতাজা করেছেন। সিরাজদীখানে পশুর চাহিদা আছে প্রায় ৫৮৫৫ টি পশু ।
মোটাতাজা করণে মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ঔষধ ব্যবহার বন্ধে মাঠ পর্যায়ে তদারকি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তাছাড়া হাটে স্টেরয়েড ও হরমোন ব্যবহার করে মোটাতাজাকরণ করা গরু বাজারে যাতে তুলতে না পারে সেজন্য পশুর হাট গুলোতে প্রাণীর সম্পদ কার্যালয়ের চিকিৎসকদের কঠোর নজরদারি রয়েছে।
ভোরের আকাশ/ র.ই