খুলনায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে আটক ১

খুলনার কয়রা উপজেলায় এক মাদ্রাসাছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে জুলফিকার সানা (৫৬) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় নেওয়ার পর অভিযুক্তকে ছাড়িয়ে নিতে দেনদরবার ও আপস-মীমাংসার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার ১১মে দুপুরে কয়রা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোহেল উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের পাটনীখালী গ্রামের সানা পাড়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত জুলফিকার সানাকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি চার দিন আগে ঘটলেও স্থানীয়ভাবে আপসের চেষ্টা চলছিল। তবে অভিযুক্ত পক্ষ টালবাহানা শুরু করলে সোমবার সকালে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে অভিযুক্তকে আটক করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, উপজেলার একটি মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী গত বৃহস্পতিবার মাদ্রাসা ছুটির পর খালার বাড়িতে যায়। দুপুরের খাবার শেষে বিকেল ৪টার দিকে সে নানাবাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়। শিক্ষার্থীটি নানাবাড়িতে থেকে মাদ্রাসায় যাতায়াত করত। পথে ফাঁকা মাঠ অতিক্রম করার সময় জুলফিকার সানা তাকে ফুঁসলিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে বলে অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, শিশুটির চিৎকার শুনে মাঠে গরুর খাদ্য সংগ্রহ করতে থাকা কয়েকজন নারী ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা কয়রা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে আপস-মীমাংসার দাবি অস্বীকার করেছেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা। তিনি "ভোরের আকাশ"কে বলেন, “আমরা কোনো দেনদরবার বা আপস করিনি। থানার এক উপপরিদর্শক আমাদের মীমাংসার প্রস্তাব দিয়েছেন।”
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যদের থানায় দৌড়ঝাঁপ করতে দেখা গেছে।
ভোরের আকাশ/নি