অবহেলার কারণেই ৬ শিশুর মৃত্যু
আদ্-দ্বীনের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির আভাস স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চরম অবহেলার কারণেই ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। আজ বুধবার (৩ জুন) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিজ কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "মেডিকেল আইন অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শিশুদের ময়নাতদন্ত না হওয়ায় আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ আইনি কিছু সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।"
তিনি আরও বলেন, "আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং এটি সবাই জানে। তবে বিচারকরা আবেগতাড়িত হয়ে বিচার করবেন না। বাস্তবতা এটাই যে, পুরোপুরি অবহেলার কারণেই ওই ছয়টি শিশু মারা গেছে।"
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "রাজউকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসপাতাল ভবনটি অনুমোদিত। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। আমার মনে হয় না আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোনো ধরনের বাড়তি সুবিধা পাবে বা ছাড় পাবে।"
সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাপানের গবেষকদের সহায়তায় দেশের ছয়টি ইউনিয়নে ২ কোটি টাকা করে ব্যয়ে 'মেডিকেল কিট বক্স' স্থাপন করা হবে। নিজস্ব অর্থায়নে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থায় একটি নির্দিষ্ট অ্যাপ থাকবে, যার মাধ্যমে রক্ত ও ইউরিন পরীক্ষাসহ সব ধরনের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবার সুযোগ-সুবিধা মিলবে।
মন্ত্রী জানান, মিডওয়াইফারি ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে ঘরে ঘরে গিয়ে সাধারণ মানুষের 'হেলথ স্ক্রিনিং' বা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। কার কী শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তা অ্যাপে লিপিবদ্ধ করা হবে এবং সেই অনুযায়ী তারা সেবা পাবেন। পাইলট প্রকল্প হিসেবে এটি সফল হলে পরবর্তীতে একযোগে সারাদেশে এই কার্যক্রম চালু করা হবে।
দেশে চলমান ডেঙ্গু ও হাম পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় একযোগে কাজ করা হবে এবং প্রতিটি উপজেলায় বিশেষ টিম থাকবে। আমাদের এখন দুটি বিষয় একসঙ্গে সামাল দিতে হচ্ছে—একদিকে হাম, অন্যদিকে ডেঙ্গু। দুটি রোগই মোকাবিলা করার জন্য আমরা পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। হাম মোকাবিলায় ইতিমধ্যে একটি মোবাইল হাসপাতাল চালু করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও পাঁচটি মোবাইল হাসপাতাল তৈরি করা হবে।"
তিনি আরও জানান, আগামী ১৫ আগস্ট ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের নতুন ভবন উদ্বোধন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই নতুন ভবনের উদ্বোধন করবেন। এরপরই হাসপাতালটিতে পুরোদমে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হবে।
ভোরের আকাশ/সু.পা



