কীভাবে চিনবেন হেড অ্যান্ড নেক ক্যানসার
বাড়ছে মুখ-গলার ক্যানসারের ঝুঁকি

ছবি: সংগৃহীত
মুখ, গলা, স্বরযন্ত্র, টনসিল, থাইরয়েড গ্রন্থি, লালাগ্রন্থি, নাক ও নাসিকাগহ্বর, মুখগহ্বরের শেষ অংশ, খাদ্যনালির উপরিভাগ এবং খুলির নীচের অংশে যে ক্যানসার হয়, সেগুলিকে একত্রে ‘হেড অ্যান্ড নেক’ ক্যানসার বলা হয়। ক্যানসার চিকিৎসক সন্দীপ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতে, আগেভাগে রোগ ধরা পড়াই জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।
অনেকেই মনে করেন, ক্যানসারের লক্ষণ মানেই খুব গুরুতর কিছু হবে। কিন্তু ‘হেড অ্যান্ড নেক’ ক্যানসারের ক্ষেত্রে শুরুতে লক্ষণগুলো এতটাই সাধারণ থাকে যে, অনেকেই তা গুরুত্ব দেন না। আর এখানেই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো শনাক্ত করা গেলে এই ধরনের ক্যানসার অনেকাংশে নিরাময়যোগ্য, কিন্তু দেরি হলে চিকিৎসা কঠিন হয়ে যায়।
চিকিৎসকরা বলছেন, এই ক্যানসারের মূল কারণগুলির মধ্যে অনেকটাই আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসের সঙ্গে জড়িত। তাই সেগুলি সম্পর্কে সচেতন থাকলে এবং অভ্যাসে পরিবর্তন আনলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
চিকিৎসকের মতে, শুরুতেই রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা সহজ হয় এবং রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। তাই প্রথম থেকেই সতর্ক হওয়া জরুরি।
সমস্যা হল, অনেকেই প্রাথমিক লক্ষণগুলিকে অবহেলা করেন। যেমন—মুখে বা গলায় দীর্ঘদিন ঘা না সারানো, গলায় ব্যথা থাকা, গলার স্বরে পরিবর্তন আসা—এসবকে সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। এগুলিই হতে পারে প্রাথমিক সতর্কবার্তা। এছাড়া, খাবার গিলতে অসুবিধা, গলা বা ঘাড়ে গাঁট বা ফোলা, দীর্ঘদিন কাশি বা গলা বসে থাকা, কানে ব্যথা বা মুখে অস্বস্তি—এই লক্ষণগুলি যদি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের প্রধান কারণগুলি হলো—
তামাকজাতীয় দ্রব্য সেবন: সিগারেট, বিড়ি, খৈনি, গুটখা ইত্যাদি সেবনে এই ক্যানসারের ঝুঁকি ১০–২০ গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
মদ্যপান: অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনেও ঝুঁকি বাড়ে। ধূমপানের সঙ্গে মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে ঝুঁকি ৩০–৪০ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) সংক্রমণ: তরুণ ও অ-ধূমপায়ীদের মধ্যেও এই ভাইরাস সংক্রমণের কারণে ক্যানসার হতে পারে।
দাঁতের সমস্যা: ভাঙা দাঁত বা ভুলভাবে বসানো দাঁতের কারণে মুখে বারবার ঘা হলে এবং তা দীর্ঘদিন অবহেলা করলে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।
এই ক্যানসার প্রতিরোধে যা করা জরুরি—
• ধূমপান ত্যাগ করা
• মদ্যপান এড়ানো
• HPV টিকা নেওয়া
• দাঁতের সঠিক যত্ন নেওয়া
ভোরের আকাশ/সু.পা



