পরামর্শ

সুস্থ থাকতে কতক্ষণ বসে থাকা নিরাপদ? গবেষকদের পরামর্শ

ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক কর্মব্যস্ত জীবনে দিনের বড় একটি অংশই কেটে যায় বসে। অফিসে ডেস্কে কাজ, যানজটে দীর্ঘ সময়, আর বাসায় ফিরে টেলিভিশন বা মোবাইলের সামনে বসে থাকা—সব মিলিয়ে শারীরিক সচলতা অনেকটাই কমে গেছে। দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে আসছেন, অতিরিক্ত সময় বসে থাকার অভ্যাস স্থূলতা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং কিছু ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে সম্প্রতি জার্নাল অব স্পোর্ট অ্যান্ড হেলথ সায়েন্স-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় উঠে এসেছে নতুন তথ্য।

দিনে ৪ ঘণ্টা বসে থাকা হতে পারে উপকারী
গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে গড়ে ৪ ঘণ্টা বসে থাকা স্বাস্থ্যের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ এবং উপকারী হতে পারে। গবেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, যারা দিনে ২ ঘণ্টার কম সময় বসেন এবং যারা ৮ ঘণ্টার বেশি সময় বসে থাকেন—উভয় দলের তুলনায় দিনে প্রায় ৪ ঘণ্টা বসে থাকা ব্যক্তিদের বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলনামূলক কম।

কেন উপকারী হতে পারে?
সাধারণ ধারণা হলো, যত কম বসে থাকা যায় ততই ভালো। তবে গবেষকদের মতে, বসে থাকা এবং সুস্বাস্থ্যের সম্পর্ক এতটা সরল নয়। যারা শারীরিকভাবে অনেক বেশি সক্রিয় বা কায়িক পরিশ্রম করেন, তাদের জন্য নির্দিষ্ট সময় বসে বিশ্রাম নেওয়া শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। এতে হাড় ও মাংসপেশির ওপর চাপ কমে এবং শরীর পুনরুদ্ধারের সুযোগ পায়।

যারা ৪ ঘণ্টার কম বসেন
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দিনে ৪ ঘণ্টার কম সময় বসে থাকেন, তারা যদি প্রতিদিনের প্রায় ৩০ মিনিটের অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের পরিবর্তে বিশ্রাম নেন বা বসে থাকেন, তাহলে তাদের অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৪ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।

যারা ৪ ঘণ্টার বেশি বসে থাকেন
অন্যদিকে যারা দিনে ৪ ঘণ্টার বেশি সময় বসে কাটান, তাদের ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন। গবেষকদের মতে, এই ব্যক্তিদের প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট বসে থাকার সময় কমিয়ে সেই সময় হাঁটাচলা, ব্যায়াম বা অন্য কোনো শারীরিক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা উচিত। এতে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো সম্ভব।

কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন মানুষের জন্য আদর্শ বসে থাকার সময় নির্ভর করে তার দৈনন্দিন জীবনযাপন ও শারীরিক সক্রিয়তার মাত্রার ওপর। যারা দীর্ঘ সময় অফিসে বসে কাজ করেন, তাদের নিয়মিত বিরতি নিয়ে হাঁটাচলা এবং ব্যায়াম করা প্রয়োজন। আবার যারা সারাদিন দাঁড়িয়ে বা কায়িক পরিশ্রম করেন, তাদের জন্য পর্যাপ্ত সময় বসে বিশ্রাম নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ভারসাম্যই সুস্থ থাকার চাবিকাঠি
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভারসাম্য বজায় রাখা। অতিরিক্ত সময় বসে থাকা যেমন ক্ষতিকর, তেমনি শরীরকে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পরিশ্রম করানোও স্বাস্থ্যকর নয়।  তাই দিনের কর্মসূচিতে বসে থাকা, হাঁটাচলা, ব্যায়াম এবং বিশ্রামের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখাই সুস্থ জীবনযাপনের অন্যতম শর্ত। তথ্যসূত্র: জিও নিউজ

ভোরের আকাশ/সু.পা

সুস্থ থাকতে কতক্ষণ বসে থাকা নিরাপদ? গবেষকদের পরামর্শ | স্বাস্থ্য কথা