পরামর্শ

প্রেগন্যান্সিতে স্পটিং কি স্বাভাবিক?

ছবি: সংগৃহীত

মা হওয়ার যাত্রা মোটেও সহজ নয়। সন্তান গর্ভে ধারণ থেকে শুরু করে জন্ম পর্যন্ত একজন হবু মাকে নানা শারীরিক পরিবর্তন, স্বাস্থ্যগত সমস্যা ও মানসিক উদ্বেগের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো স্পটিং বা হালকা রক্তপাত। গর্ভাবস্থায় যোনিপথে অল্প রক্তক্ষরণ অনেকের জন্যই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে চিকিৎসকদের মতে, বিশেষ করে গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে এটি একটি তুলনামূলকভাবে সাধারণ ঘটনা এবং সব সময় গুরুতর সমস্যার লক্ষণ নয়।

গর্ভাবস্থায় রক্তপাত কতটা স্বাভাবিক?
বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থার প্রথম ত্রৈমাসিকে হালকা রক্তপাত বা স্পটিং অনেক নারীর ক্ষেত্রেই দেখা যায়। স্পটিং বলতে সাধারণত যোনিপথে কয়েক ফোঁটা গোলাপি, লাল বা বাদামি রঙের রক্তক্ষরণকে বোঝায়। এমন রক্তপাত হলেও অনেক নারীর গর্ভাবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকে। তবে গর্ভাবস্থায় যেকোনো ধরনের রক্তপাতকে অবহেলা করা উচিত নয়। এর প্রকৃত কারণ জানতে অবশ্যই একজন প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কেন হয় স্পটিং?
গর্ভাবস্থার শুরুতে স্পটিংয়ের অন্যতম সাধারণ কারণ হলো ইমপ্লান্টেশন ব্লিডিং। নিষিক্ত ডিম্বাণু জরায়ুর আস্তরণে সংযুক্ত হওয়ার সময় এই হালকা রক্তপাত হতে পারে। সাধারণত গর্ভধারণের ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে এটি দেখা দেয় এবং এক থেকে দুই দিনের বেশি স্থায়ী হয় না। এ ছাড়া হরমোনের পরিবর্তন কিংবা জরায়ুমুখে রক্তপ্রবাহ বেড়ে যাওয়ার কারণেও স্পটিং হতে পারে। গর্ভাবস্থায় জরায়ুমুখ বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। ফলে যৌন মিলন, পেলভিক পরীক্ষা বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের পরও হালকা রক্তপাত দেখা দিতে পারে।

কখন হতে পারে উদ্বেগের কারণ?
দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে স্পটিং তুলনামূলকভাবে কম হয়। এ সময় রক্তপাত হলে তা কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। এ ধরনের রক্তপাতের পেছনে জরায়ুমুখের পরিবর্তন, সংক্রমণ, জরায়ুমুখে পলিপ বা প্রদাহের মতো কারণ থাকতে পারে। আবার গর্ভাবস্থার শেষ দিকে প্লাসেন্টা প্রিভিয়া, প্লাসেন্টাল অ্যাব্রাপশন কিংবা অকাল প্রসবের মতো গুরুতর জটিলতারও ইঙ্গিত হতে পারে। তাই এ ধরনের রক্তপাত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

হালকা ও অতিরিক্ত রক্তপাতের পার্থক্য
স্পটিং বা হালকা রক্তপাতের ক্ষেত্রে সাধারণত কয়েক ফোঁটা রক্ত বের হয়, যা স্যানিটারি প্যাড ভিজিয়ে দেয় না। অন্যদিকে, অতিরিক্ত রক্তপাতের সঙ্গে যদি তীব্র পেটব্যথা, কোমরব্যথা, মাথা ঘোরা, জ্বর, রক্তের জমাট অংশ বা টিস্যু বের হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে তা জরুরি চিকিৎসার বিষয়। এসব লক্ষণ গর্ভপাত, একটোপিক প্রেগন্যান্সি বা গর্ভাবস্থাজনিত অন্য কোনো জটিলতার ইঙ্গিত হতে পারে।

কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন?
গর্ভাবস্থায় যেকোনো ধরনের রক্তপাত দেখা দিলে নিজে নিজে রোগ নির্ণয় করা বা শুধুমাত্র ঘরোয়া প্রতিকারের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। যত দ্রুত সম্ভব প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। প্রয়োজনে চিকিৎসক আল্ট্রাসাউন্ড, রক্ত পরীক্ষা বা শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তপাতের কারণ নির্ণয় করবেন। চিকিৎসকের পরামর্শ না পাওয়া পর্যন্ত রক্তপাত চলতে থাকলে ভারী শারীরিক পরিশ্রম, যৌন মিলন এবং যোনিপথে কোনো কিছু প্রবেশ করানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ভোরের আকাশ/সু.পা

প্রেগন্যান্সিতে স্পটিং কি স্বাভাবিক? | স্বাস্থ্য কথা