পরামর্শ

বারবার কিডনিতে পাথর হওয়ার কারণ

ছবি: সংগৃহীত

কিডনিতে পাথর হওয়া একটি সাধারণ মূত্রতন্ত্রজনিত সমস্যা। নারীদের তুলনায় পুরুষদের এ সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। অনেকের ক্ষেত্রে একবার পাথর হওয়ার পর তা বারবার ফিরে আসে। কেন এমন হয় এবং কীভাবে এর ঝুঁকি কমানো যায়, সে বিষয়ে সচেতনতা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বারবার কিডনিতে পাথর হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে। এর মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত পানি না পান করা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা, বিপাকীয় (মেটাবলিক) সমস্যা এবং পারিবারিক ইতিহাস। অনেকের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই ক্যালসিয়াম, অক্সালেট বা ইউরিক অ্যাসিডের মতো পাথর-সৃষ্টিকারী উপাদান বেশি পরিমাণে নিঃসৃত হয়, যা পুনরায় পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

সতর্ক থাকা জরুরি
অনেকের ধারণা, কিডনির পাথর অপসারণ করলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। তবে চিকিৎসকদের মতে, পাথর অপসারণের পরও পুনরায় পাথর হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও জীবনযাপনের পরিবর্তন না আনলে নতুন করে পাথর তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক রোগী পাথর অপসারণের পর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে গুরুত্ব দেন না। ফলে কিছুদিন পর আবার একই সমস্যায় পড়েন।

প্রতিরোধে করণীয়
যাদের বারবার কিডনিতে পাথর হওয়ার ইতিহাস রয়েছে, উভয় কিডনিতে পাথর আছে, একাধিক বা বড় আকারের পাথর রয়েছে, তাদের রক্ত ও মূত্র পরীক্ষা করিয়ে পাথর তৈরির মূল কারণ শনাক্ত করা উচিত। এ ক্ষেত্রে একজন ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কারণ, অন্তর্নিহিত কারণ শনাক্ত করা গেলে ভবিষ্যতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন
গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে পর্যাপ্ত পানি বজায় রাখলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা জরুরি।

লবণ গ্রহণ কমান
অতিরিক্ত লবণ কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই খাবারে লবণের ব্যবহার সীমিত রাখা উচিত। স্বাদ বাড়াতে ভেষজ ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর মসলা ব্যবহার করা যেতে পারে।

সুষম খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করুন
চিকিৎসকদের মতে, ফলমূল, শাকসবজি ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যসমৃদ্ধ সুষম খাদ্যাভ্যাস কিডনির জন্য উপকারী। বিশেষ করে DASH (ড্যাশ) ডায়েট অনুসরণ করলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমতে পারে।

ভোরের আকাশ/সু.পা

বারবার কিডনিতে পাথর হওয়ার কারণ | স্বাস্থ্য কথা | ভোরের আকাশ