বৃষ্টির দিনে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, মেনে চলুন এই সতর্কতা

ছবি: সংগৃহীত
বর্ষাকাল এলেই প্রকৃতিতে স্বস্তি ফিরলেও এর সঙ্গে বাড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি। আষাঢ়ের টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয় এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে পানীয় পানি সহজেই দূষিত হয়ে পড়ে। ফলে ডায়রিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিসসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সুস্থ থাকতে এ সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
পানিবাহিত রোগ
বৃষ্টির সময়ে ভূগর্ভস্থ পানির সঙ্গে ময়লা পানি মিশে গিয়ে বাসাবাড়ির পানির উৎস দূষিত হতে পারে। এতে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ে—
টাইফয়েড: দীর্ঘমেয়াদি জ্বর ও হজমজনিত সমস্যার মাধ্যমে দেখা দেয়।
ডায়রিয়া ও কলেরা: দূষিত পানি ও বাসি খাবারের মাধ্যমে দ্রুত সংক্রমিত হয়।
জন্ডিস (হেপাটাইটিস এ ও ই): দূষিত পানি ও খোলা পানীয় গ্রহণের কারণে হয়।
প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র
পানি ফুটানো: বর্ষাকালে নিরাপদ পানির সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো পানি ফুটিয়ে পান করা। পানি অন্তত ১৫–২০ মিনিট ভালোভাবে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে পরিষ্কার পাত্রে রাখতে হবে। বাইরে যাওয়ার সময় ফুটানো পানির বোতল সঙ্গে রাখা উচিত।
ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও সতর্কতা
হাত ধোয়ার অভ্যাস: খাবারের আগে ও বাইরে থেকে এসে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়া।
নখ ছোট রাখা: নখের নিচের ময়লা থেকে জীবাণু শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
সবজি ও ফল পরিষ্কার করা: রান্নার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
খোলা খাবার এড়িয়ে চলা: রাস্তার শরবত, কাটা ফল ও খোলা খাবার সম্পূর্ণ পরিহার করা।
সচেতনতা
স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ এড়িয়ে চলা, কারণ এতে জীবাণু দ্রুত ছড়ায়।
বাড়ির আশেপাশে বৃষ্টির পানি জমতে না দেওয়া।
ঘর পরিষ্কারে জীবাণুনাশক ব্যবহার করা।
বর্ষার এই সময়টা উপভোগ করতে হলে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতন থাকা জরুরি। সামান্য কিছু অভ্যাস পরিবর্তন আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে পানিবাহিত রোগ থেকে নিরাপদ রাখতে পারে। মনে রাখতে হবে- প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম।
ভোরের আকাশ/সু.পা



