পরামর্শ

বর্ষায় বাড়ছে চোখ ওঠার ঝুঁকি, কীভাবে থাকবেন নিরাপদ

ছবি: সংগৃহীত

চোখ হঠাৎ করে লাল হয়ে যাওয়া, অনবরত পানি পড়া, জ্বালাপোড়া বা চোখের ভেতর বালু ঢুকে গেছে এমন অস্বস্তি—এসবই চোখ ওঠা বা কনজাংটিভাইটিসের সাধারণ লক্ষণ। বর্ষাকাল, আর্দ্র আবহাওয়া বা ভ্যাপসা গরমে এই রোগের প্রকোপ অনেক বেড়ে যায়। সাধারণত এটি কয়েক দিনের মধ্যেই সেরে যায়, তবে অবহেলা করলে চোখের কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং জটিলতা তৈরি হতে পারে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই রোগকে বলা হয় ‘কনজাংটিভাইটিস’। এটি চোখের কনজাংটিভা নামক পাতলা পর্দার সংক্রমণ, যা অত্যন্ত ছোঁয়াচে। একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, বিশেষ করে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ঠিক না থাকলে।

চোখ ওঠার কারণ : চোখ ওঠা সাধারণত তিন ধরনের কারণে হয়ে থাকে—

ভাইরাসজনিত সংক্রমণ : এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এবং অত্যন্ত ছোঁয়াচে। সাধারণ সর্দি-কাশির ভাইরাস থেকেও চোখে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। একবার আক্রান্ত হলে পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যেও দ্রুত ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে।

ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ : অপরিচ্ছন্ন হাত, ময়লা পানি বা দূষিত পরিবেশে চোখ স্পর্শ করলে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হতে পারে। এতে চোখের কোণে হলুদ বা সাদা পুঁজ জমে যায় এবং সকালে ঘুম থেকে উঠলে চোখের পাতা আটকে যেতে পারে।

অ্যালার্জিজনিত কারণ : ধুলোবালি, ফুলের রেণু, ধোঁয়া বা রাসায়নিক পদার্থে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের চোখ লাল হয়ে যাওয়া, চুলকানো ও জ্বালাপোড়া হতে পারে। এটি সাধারণত ছোঁয়াচে নয়, তবে দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তি তৈরি করে।

প্রধান লক্ষণ
চোখ ওঠার ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা যায়—
• চোখ লাল হয়ে যাওয়া
• অনবরত পানি পড়া
• চোখে বালু পড়ার মতো খচখচে অনুভূতি
• ঘুম থেকে উঠে চোখের পাতা লেগে থাকা
• চোখ ফুলে যাওয়া
• আলোতে তাকাতে সমস্যা হওয়া (Light sensitivity)
• চোখ চুলকানো বা জ্বালাপোড়া করা
এই লক্ষণগুলো এক বা দুই চোখে হতে পারে এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

আক্রান্ত হলে করণীয় (প্রতিকার) : চোখ ওঠা হলে সঠিক যত্ন নেওয়া খুবই জরুরি—

বিশ্রাম ও সুরক্ষা : আক্রান্ত ব্যক্তিকে পর্যাপ্ত বিশ্রামে থাকতে হবে। বাইরে বের হলে কালো সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত, যাতে ধুলোবালি ও তীব্র আলো থেকে চোখ রক্ষা পায়।

পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা : চোখে বারবার হাত দেওয়া যাবে না। চোখ পরিষ্কার করতে পরিষ্কার নরম টিস্যু বা সুতি কাপড় ব্যবহার করতে হবে এবং ব্যবহার শেষে তা ফেলে দিতে বা পরিষ্কার করে রাখতে হবে।

ঠাণ্ডা সেঁক : চোখের জ্বালাপোড়া ও ফোলাভাব কমাতে পরিষ্কার কাপড় ঠাণ্ডা পানিতে ভিজিয়ে আলতোভাবে চোখের ওপর সেঁক দিলে আরাম পাওয়া যায়।

ব্যক্তিগত জিনিস আলাদা রাখা : তোয়ালে, বালিশের কভার, রুমাল বা প্রসাধনী অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না। এতে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি কমে।

যা করবেন না
• চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো আই ড্রপ বা স্টেরয়েড ব্যবহার করবেন না
• চোখ ঘষা থেকে বিরত থাকুন, এতে কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
• সরাসরি পানির ঝাপটা দিয়ে চোখ পরিষ্কার করবেন না
• কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করলে সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত ব্যবহার বন্ধ রাখুন

চিকিৎসকের পরামর্শ : যদি চোখে তীব্র ব্যথা হয়, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়, বা ৫–৭ দিনের মধ্যে কোনো উন্নতি না হয়, তাহলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। দেরি করলে সংক্রমণ বেড়ে গিয়ে জটিলতা তৈরি করতে পারে।

ভোরের আকাশ/সু.পা

বর্ষায় বাড়ছে চোখ ওঠার ঝুঁকি, কীভাবে থাকবেন নিরাপদ | স্বাস্থ্য কথা | ভোরের আকাশ