বুকের ব্যথা নিয়ে অবহেলা প্রাণঘাতী হতে পারে

ছবি: সংগৃহীত
প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বুকব্যথা দেখা দিলে অধিকাংশ মানুষই প্রথমে সেটিকে গ্যাস বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বলে ধরে নেন। অনেকেই দ্রুত গ্যাসের ওষুধ সেবন করে সাময়িক স্বস্তিও পান। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাদের মনে হয়, ব্যথার কারণ ছিল গ্যাস। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, বুকব্যথার পেছনে অনেক সময় গুরুতর রোগও লুকিয়ে থাকতে পারে, যা অবহেলা করলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ওষুধগুলোর মধ্যে গ্যাসের ওষুধ অন্যতম। কারণ এসব ওষুধে সাধারণত তাৎক্ষণিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম দেখা যায়। ফলে অনেক ফার্মেসিতেও সহজেই গ্যাসের ওষুধ দেওয়া হয়। তবে সব বুকব্যথাকে গ্যাসজনিত সমস্যা মনে করা ঠিক নয়।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুকব্যথার নানা কারণ থাকতে পারে। হার্টের বিভিন্ন রোগ, শ্বাসনালি ও ফুসফুসের সমস্যা, হাঁপানি, এমনকি গলা বা চোয়ালের অসুস্থতার কারণেও বুকব্যথা হতে পারে। এছাড়া বুকের পাঁজরের অস্থিসন্ধিতে প্রদাহ, বুকের মাংসপেশি বা জয়েন্টের সমস্যা, পিত্তথলির প্রদাহ কিংবা মেরুদণ্ডের জটিলতার কারণেও এই ব্যথা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বুকের হাড় বা মাংসপেশির সমস্যাজনিত ব্যথা সাধারণত নড়াচড়া, গভীর শ্বাস নেওয়া বা কাশি দিলে বাড়ে। আবার কিছু মানুষের খুব অল্প সময়ের জন্য বুকের মধ্যে চিনচিনে বা খোঁচা লাগার মতো ব্যথা হয়, যা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেরে যায়। এ ধরনের ব্যথা সাধারণত খুব উদ্বেগের কারণ নয়।
তবে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হলো হার্ট ব্লকের কারণে হওয়া বুকব্যথা। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হৃদরোগ, বিশেষ করে হার্ট ব্লক ও এর জটিলতা।
চিকিৎসকদের মতে, হার্ট ব্লকের প্রাথমিক পর্যায়ে মাঝেমধ্যে বুকব্যথা দেখা দেয়। এই ব্যথা বুকের মাঝখানে, বাম পাশে কিংবা ডান পাশে হতে পারে। অনেক সময় ব্যথা এক বা দুই বাহু, ঘাড়, গলা, চোয়াল, পিঠ কিংবা পেটের ওপরের অংশেও ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত কয়েক মিনিটের মধ্যে ব্যথা আপনা-আপনি কমে যায়।
তবে যদি এই ব্যথা ঘনঘন হতে থাকে, তীব্রতা বাড়তে থাকে বা দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়, তাহলে তা হার্ট ব্লকের অগ্রগতির ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে পরিশ্রমের সময় ব্যথা বাড়া এবং বিশ্রাম নিলে কমে যাওয়া হার্ট ব্লকের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ বলে মনে করা হয়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, বুকব্যথার সঙ্গে যদি শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় করা, অতিরিক্ত ঘাম, বমি বমি ভাব, বমি কিংবা বুকে চাপ অনুভূত হয়, তাহলে সেটিকে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাব্য লক্ষণ হিসেবে ধরে নিতে হবে। এ অবস্থায় দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে, বিশেষ করে যেখানে হৃদরোগের চিকিৎসা সুবিধা রয়েছে।
সাধারণ বুকব্যথার ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে প্যারাসিটামল ও গ্যাসের ওষুধ সেবন করা যেতে পারে। তবে এক-দুই দিনের মধ্যে ব্যথা না কমলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বুকব্যথাকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিলে বড় ধরনের জটিলতা ও প্রাণহানির ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
ভোরের আকাশ/সু.পা



