চিকিৎসকদের জনগণের সেবায় আন্তরিক হতে হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
দেশের সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের পেশাগত নৈতিকতা, সময়ানুবর্তিতা এবং জবাবদিহিতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিনের (বিএসসিসিএম) জাতীয় সম্মেলন-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব পালনে শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা ও নিষ্ঠার গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি বলেন, দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের বিনয়, দায়বদ্ধতা ও জনগণের প্রতি সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে।
চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোতে আধুনিক যন্ত্রপাতি, আইসিইউ বা বড় অঙ্কের বাজেট থাকলেও চিকিৎসকদের আন্তরিকতা, মানবিক আচরণ ও সময়মতো সেবা ছাড়া সাধারণ মানুষ প্রকৃত উপকার পাবে না। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের শতভাগ সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রোগীদের অযথা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করানো যাবে না এবং হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও শয্যা ব্যবস্থাপনার মান বজায় রাখতে হবে।
করোনা মহামারির সময় চিকিৎসকদের অবদানের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ যখন চাপে ছিল, তখন বাংলাদেশের চিকিৎসকেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য আনসার মোতায়েন এবং বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা অনুমোদন করেছে।
স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, দেশের ১০টি জেলায় নতুন আইসিইউ চালুর পর শিগগিরই জয়পুরহাট, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া এবং রংপুর শিশু হাসপাতালেও আইসিইউ চালু করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ৫০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, একটি আন্তর্জাতিক প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ১ হাজার শয্যাবিশিষ্ট ২০টি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে দুটি হাসপাতাল নারীদের জন্য বিশেষায়িত হবে। এছাড়া মুমূর্ষু রোগীদের দ্রুত স্থানান্তরের জন্য বিশেষ হেলিকপ্টার ও আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর পরিকল্পনাও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার মর্যাদা দিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি আশ্বাস দেন, চিকিৎসকদের লজিস্টিক ও প্রশাসনিক যেকোনো সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সবসময় সহযোগিতা করবে।
অনুষ্ঠানে ডা. জোবায়দা রহমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্যসচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী, বিএসসিসিএমের সভাপতি অধ্যাপক ডা. আরিফ আহসান, সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. জাফর ইকবাল, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ, মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীমসহ স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভোরের আকাশ/সু.পা



