স্বাস্থ্য শিক্ষা

চোখে ছানি পড়া রোধে ৫ অভ্যাস মেনে চলা জরুরি

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ হলো চোখে ছানি পড়া। প্রতি বছর লাখো মানুষ এ সমস্যায় আক্রান্ত হন। তবে অনেকেই জানেন না, দৈনন্দিন জীবনযাপনের কিছু অভ্যাস ছানির ঝুঁকি বাড়াতে বা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর কিছু অভ্যাস গড়ে তুললে দৃষ্টিশক্তি দীর্ঘদিন ভালো রাখা সম্ভব এবং ছানি পড়ার ঝুঁকিও কমানো যায়।

ছানি কী?
চোখের স্বাভাবিক লেন্স ধীরে ধীরে ঘোলা হয়ে গেলে তাকে ছানি বলা হয়। এর ফলে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়, আলোতে অস্বস্তি অনুভূত হয় এবং সময়মতো চিকিৎসা না নিলে দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছানির ঝুঁকি বৃদ্ধি পেলেও জীবনযাপনের ধরন এ রোগের বিকাশকে প্রভাবিত করতে পারে।

চোখকে অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষিত রাখুন : সূর্যের অতিবেগুনি (ইউভি) রশ্মির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ছানি হওয়ার অন্যতম কারণ। তাই বাইরে বের হওয়ার সময় এমন সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত, যা ১০০ শতাংশ UVA ও UVB রশ্মি প্রতিরোধ করতে সক্ষম। পাশাপাশি চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি ব্যবহার করলে সরাসরি সূর্যের আলো চোখে পড়া কমে এবং অতিরিক্ত সুরক্ষা পাওয়া যায়।

পুষ্টিকর ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার খান : চোখের সুস্থতায় খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার চোখের লেন্সকে ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিকেলের প্রভাব থেকে রক্ষা করে। পালং শাক, কেলসহ সবুজ শাকসবজি, কমলা, আমের মতো রঙিন ফল এবং ভিটামিন সি ও ই সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাওয়া উপকারী। এছাড়া স্যামনের মতো চর্বিযুক্ত মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড চোখের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।

ধূমপান ত্যাগ করুন : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ীদের ছানি হওয়ার ঝুঁকি দুই থেকে তিন গুণ বেশি। ধূমপানের কারণে শরীরে বিষাক্ত উপাদান প্রবেশ করে, যা চোখের অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা কমিয়ে দেয় এবং লেন্সের ক্ষয়প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে। তাই চোখের সুস্থতা রক্ষায় ধূমপান ত্যাগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখুন : ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগ ছানির ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে চোখের লেন্স দ্রুত ঘোলা হতে পারে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এসব রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন।

নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা করান : চোখের যেকোনো সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করতে নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি। এতে ছানির পাশাপাশি গ্লুকোমা ও ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের মতো রোগও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের অন্তত প্রতি দুই বছরে একবার এবং ৬০ বছরের পর প্রতি বছর চক্ষু পরীক্ষা করানো উচিত।

চোখ আমাদের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ। তাই সুস্থ দৃষ্টিশক্তি বজায় রাখতে এখন থেকেই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। সামান্য সচেতনতা ভবিষ্যতে ছানিসহ নানা চোখের রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।

ভোরের আকাশ/সু.পা

চোখে ছানি পড়া রোধে ৫ অভ্যাস মেনে চলা জরুরি | স্বাস্থ্য কথা | ভোরের আকাশ