প্রতিদিন এক পায়ে দাঁড়ান, ঠিক থাকবে শরীরের ভারসাম্য ও মস্তিষ্ক

ছবি: সংগৃহীত
এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা অনেকের কাছেই সাধারণ একটি কাজ মনে হতে পারে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সহজ অনুশীলন নিয়মিত করলে শরীরের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত হয় এবং বয়সজনিত নানা শারীরিক সমস্যার ঝুঁকিও কমতে পারে।
শিশুকালে এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ সহজ হলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যায়। সাধারণত ৩০ বছর বয়সের দিকে মানুষ ভারসাম্য রক্ষায় সবচেয়ে দক্ষ থাকে। এরপর বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সেই দক্ষতা হ্রাস পেতে শুরু করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫০ বছরের বেশি বয়সী কেউ যদি কয়েক সেকেন্ড এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন, তবে সেটি তার ভারসাম্য, পেশিশক্তি এবং সামগ্রিক শারীরিক সক্ষমতার ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায় : এক পায়ে ভারসাম্য ধরে রাখতে চোখ, কানের ভেস্টিবুলার সিস্টেম এবং স্নায়ুতন্ত্রকে একসঙ্গে কাজ করতে হয়। এই সমন্বয় মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশকে সক্রিয় রাখে। ফলে মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং তথ্য বিশ্লেষণের ক্ষমতা উন্নত হতে পারে।
পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমায় : বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার আশঙ্কাও বাড়ে। এক পায়ে দাঁড়ানোর অনুশীলন শরীরের ভারসাম্য উন্নত করে এবং হঠাৎ পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষমতা বাড়ায়। ফলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
পেশি শক্তিশালী রাখতে সহায়তা করে : ৩০ বছরের পর থেকেই শরীরের পেশির ভর ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে সারকোপেনিয়া নামে পরিচিত। নিয়মিত এক পায়ে দাঁড়ানোর অনুশীলন পা, কোমর ও নিতম্বের পেশিকে সক্রিয় রাখে। এতে পেশিশক্তি ধরে রাখা সহজ হয় এবং বয়সজনিত পেশিক্ষয়ের ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে।
বার্ধক্যে হাটা-চলায় সহায়তা : ভালো ভারসাম্য শুধু হাঁটাচলা সহজ করে না, বরং দৈনন্দিন কাজেও আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে দীর্ঘ বয়স পর্যন্ত শরীরকে সচল ও স্বাধীনভাবে পরিচালনা করার সক্ষমতা বজায় রাখা সম্ভব।
ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক : গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের শরীরের ভারসাম্য ভালো, তাদের মধ্যে বয়সজনিত জ্ঞানীয় অবক্ষয় তুলনামূলক ধীরগতিতে দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ভারসাম্য রক্ষার ব্যায়াম ডিমেনশিয়া ও আলঝেইমারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
কীভাবে শুরু করবেন?
এক পায়ে দাঁড়ানোর অনুশীলন করতে আলাদা কোনো যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয় না। দৈনন্দিন কাজের ফাঁকেই এটি করা যায়।
দাঁত ব্রাশ করার সময় ১০–১৫ সেকেন্ড এক পায়ে দাঁড়ান, তারপর অন্য পায়ে একইভাবে করুন।
রান্নাঘরে কাজ বা থালা-বাসন ধোয়ার সময়ও অনুশীলন করা যেতে পারে।
খালি পায়ে ও জুতা পরে—উভয়ভাবেই অনুশীলন করলে ভারসাম্য আরও উন্নত হতে পারে।
শুরুতে নিরাপত্তার জন্য দেয়াল, চেয়ার বা টেবিলের সহায়তা নিন। পরে ধীরে ধীরে সহায়তা ছাড়াই দাঁড়ানোর চেষ্টা করুন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, দিনে কয়েক মিনিট এই অনুশীলন করলেও শরীরের ভারসাম্য, পেশিশক্তি এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বজায় রাখতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে মাথা ঘোরা, ভারসাম্যজনিত রোগ বা স্নায়বিক সমস্যায় ভুগলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অনুশীলন শুরু করা উচিত। তথ্যসূত্র : বিবিসি বাংলা
ভোরের আকাশ/সু.পা



