পরামর্শ

চুল পড়া কমাতে নিয়ন্ত্রণে রাখুন এই খাবারগুলো

ছবি: সংগৃহীত

চুল পড়ার সমস্যায় অনেকেই শ্যাম্পু পরিবর্তন করেন, দামি হেয়ার সিরাম ব্যবহার করেন বা বিভিন্ন ঘরোয়া উপায় ও সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভর করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, চুলের সুস্থতা শুধু বাহ্যিক পরিচর্যার ওপর নির্ভর করে না; বরং শরীর পর্যাপ্ত পুষ্টি পাচ্ছে কি না, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

চুলের প্রতিটি গোছার বৃদ্ধি ও সুস্থতার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক, ভিটামিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি। এসব পুষ্টির ঘাটতি বা দীর্ঘদিনের অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস চুল দুর্বল করে দিতে পারে এবং চুল পড়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

সম্প্রতি টাইমস অব ইন্ডিয়া-এর একটি লাইফস্টাইল প্রতিবেদনে নিম্নে উল্লেখিত খাবারগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলো অতিরিক্ত খেলে চুলের ক্ষতি হতে পারে।

অতিরিক্ত মিষ্টি ও চিনিযুক্ত খাবার : অতিরিক্ত চিনি রক্তে গ্লুকোজ ও ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে হরমোনের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে, যা মাথার ত্বকে অতিরিক্ত তেল উৎপাদন এবং চুল পাতলা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। পাশাপাশি অতিরিক্ত চিনি শরীরে প্রদাহও বাড়ায়, যা চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করতে পারে।

ডিপ-ফ্রাইড ফাস্ট ফুড : ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ফ্রাইড চিকেন, চিপসসহ ভাজাপোড়া খাবারে অস্বাস্থ্যকর চর্বি ও অতিরিক্ত ক্যালোরি থাকলেও প্রয়োজনীয় পুষ্টি খুবই কম থাকে। নিয়মিত এসব খাবার খেলে শরীরে প্রোটিন, আয়রন ও জিঙ্কের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা চুলের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার : ইনস্ট্যান্ট নুডলস, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস এবং প্রক্রিয়াজাত মাংসে সাধারণত অতিরিক্ত সোডিয়াম, রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট ও সংরক্ষণকারী উপাদান থাকে। এসব খাবারে চুলের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি না থাকায় দীর্ঘমেয়াদে চুল দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

পারদের মাত্রা বেশি এমন মাছ : মাছ সাধারণভাবে স্বাস্থ্যকর হলেও সোর্ডফিশ, শার্ক এবং কিছু বড় আকারের টুনা মাছে পারদের (মারকারি) মাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকে। এসব মাছ অতিরিক্ত খেলে শরীরে পারদের মাত্রা বেড়ে চুল পড়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

অতিরিক্ত ভিটামিন ‘এ’ : ভিটামিন এ চুল ও ত্বকের জন্য উপকারী। তবে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্ট বা ফোর্টিফায়েড খাবার গ্রহণ করলে চুলের ফলিকল দ্রুত ঝরে পড়ার পর্যায়ে যেতে পারে।

অতিরিক্ত অ্যালকোহল : অতিরিক্ত অ্যালকোহল শরীরকে পানিশূন্য করে এবং জিঙ্ক ও ফোলেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান শোষণে বাধা দেয়। ফলে নতুন চুল গজানো ও বিদ্যমান চুলের স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

কম প্রোটিনযুক্ত খাদ্যাভ্যাস : চুল মূলত কেরাটিন নামের একটি প্রোটিন দিয়ে তৈরি। ওজন কমানোর জন্য দীর্ঘদিন প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার—যেমন ডিম, মাছ, দুধ, ডাল বা মাংস—এড়িয়ে চললে শরীর গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর চাহিদা পূরণে অগ্রাধিকার দেয়। এতে চুলের পুষ্টি কমে গিয়ে অতিরিক্ত চুল পড়তে পারে।

রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট : সাদা পাউরুটি, পেস্ট্রি এবং চিনিযুক্ত ব্রেকফাস্ট সিরিয়ালের মতো রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি হরমোনের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলে এবং চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝে মধ্যে এসব খাবার খাওয়ায় সমস্যা নেই। তবে এগুলো যেন নিয়মিত খাদ্যতালিকার প্রধান অংশ না হয়। সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসই চুলকে মজবুত, ঘন ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখতে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

ভোরের আকাশ/সু.পা

চুল পড়া কমাতে নিয়ন্ত্রণে রাখুন এই খাবারগুলো | স্বাস্থ্য কথা