হঠাৎ বাড়ছে চর্মরোগ বিস্তার এবং ছত্রাকের সংক্রমণ

ছবি: সংগৃহীত
হঠাৎ করেই হাত-পায়ের ভাঁজে র্যাশ, ছত্রাকজনিত সংক্রমণ ও মুখের আলসারের মতো সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে অনেক মানুষ, বিশেষ করে শিশু ও কম বয়সীরা। দাদ, অ্যাথলেট’স ফুট ও স্ক্যাবিসের মতো চর্মরোগও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, কখনো রোদ আবার কখনো বৃষ্টি—এ ধরনের খামখেয়ালি আবহাওয়া সংক্রমণ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
এছাড়া হ্যান্ড-ফুট-মাউথ ডিজিজ (এইচএফএমডি)–এর প্রকোপও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে ছত্রাক ও বিভিন্ন পরজীবী সংক্রমণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শুরুতে ভাইরাল জ্বর দেখা যাচ্ছে, এরপর হাত-পায়ে ঘা ও ফোস্কার মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। আঙুলের ফাঁক, হাত ও পায়ের চামড়ায় ক্ষত তৈরি হয়ে চামড়া শুকিয়ে আঁশের মতো হয়ে যাচ্ছে।

অ্যাথলেট’স ফুট : অ্যাথলেট’স ফুট মূলত পায়ের ছত্রাকজনিত সংক্রমণ। ভেজা মোজা বা জুতা দীর্ঘক্ষণ পরে থাকলে এ রোগের ঝুঁকি বাড়ে। পায়ের আঙুলের ফাঁকে লালচে র্যাশ, চুলকানি ও চামড়া উঠতে দেখা যায়। অন্যের জুতা বা তোয়ালে ব্যবহার করলেও সংক্রমণ হতে পারে।

দাদ বা রিংওয়ার্ম : দাদ সাধারণত টিনিয়া সংক্রমণ (Tinea) নামক ছত্রাকের কারণে হয়ে থাকে। শরীরের যেসব অংশ বেশি ঘামে—যেমন বাহুমূল, ঘাড়, হাত-পায়ের পাতা ও আঙুলের ফাঁক- সেখানে সংক্রমণ বেশি দেখা যায়। ঘাম, ধুলাবালি ও অস্বাস্থ্যকর পরিচ্ছন্নতা এই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিফাঙ্গাল চিকিৎসার পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। আক্রান্ত স্থানে কিছু ক্ষেত্রে টি-ট্রি অয়েল বা নারকেল তেলের ব্যবহার সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে।

স্ক্যাবিস : স্ক্যাবিস এক ধরনের পরজীবীজনিত চর্মরোগ, যা সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এটি ত্বকের উপরের স্তরে প্রবেশ করে তীব্র চুলকানি ও র্যাশ সৃষ্টি করে। আঙুলের ফাঁক, নখের ভাঁজ ও বাহুমূলে বেশি দেখা যায়।

ক্যানডিডা সংক্রমণ : ক্যানডিডা সংক্রমণ বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ একটি ছত্রাকজনিত রোগ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেছে। আক্রান্ত ব্যক্তির ত্বক বা ক্ষত স্পর্শ করলে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত সরঞ্জামেও এই জীবাণু টিকে থাকতে পারে। এই সংক্রমণে সারা শরীরে র্যাশ, ত্বকের সমস্যা, এমনকি কানে ব্যথা বা পুঁজ জমার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, শুকনো পোশাক ব্যবহার এবং বিছানার চাদর পরিষ্কার রাখা এ রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ।
এই ধরনের চর্মরোগ থেকে বাঁচতে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত হাত-পা ধোয়া, ভেজা পোশাক দ্রুত পরিবর্তন করা, পরিষ্কার বিছানার চাদর ব্যবহার এবং শিশুদের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন রাখা জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।



