ইউনিয়ন পর্যায়ে শক্তিশালী স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

ছবি: সংগৃহীত
তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর ও সহজলভ্য করতে প্রতিটি ইউনিয়নে শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী তিন বছরের মধ্যে লন্ডনের জিপি (জেনারেল প্র্যাকটিশনার) মডেলের আদলে সারা দেশে এ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
রোববার (২৪ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরাম আয়োজিত “টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের লক্ষ্যে সুস্থ শিশুদের পাশাপাশি ছোট ও অসুস্থ শিশুদের বাঁচাতে হবে” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ তথ্য জানান।
ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, প্রাথমিকভাবে পাঁচটি জেলায় এ পরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। নতুন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় কার্যকর রেফারেল সিস্টেম চালু থাকবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে চিকিৎসার পর রোগী সুস্থ না হলে দ্রুত উপজেলা বা জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো প্রসূতি মা ও নবজাতকের চিকিৎসার জন্য এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছোটাছুটি বন্ধ করা। এজন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই মা ও নবজাতকের সব ধরনের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বলেন, নবজাতক সেবায় বিনিয়োগ কেবল স্বাস্থ্য খাতের বিষয় নয়; এটি দেশের ভবিষ্যৎ মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি হিউম্যান মিল্ক স্টোরেজ সেন্টারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু এবং একটি জাতীয় নবজাতক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ডা. মো. মজিবুর রহমান। তিনি বলেন, দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর বড় অংশ নবজাতক পর্যায়ে ঘটে। এসডিজি অর্জনে নবজাতক সেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক প্রি-টার্ম ও কম ওজনের শিশু জন্ম নেয়। তাদের অনেকের জন্য বিশেষায়িত শ্বাস-প্রশ্বাস সহায়তা, তাপ সুরক্ষা, নিবিড় পরিচর্যা ও দীর্ঘমেয়াদি ফলোআপ প্রয়োজন হয়। কিন্তু সরকারি ও বেসরকারি অনেক হাসপাতালে এখনো পর্যাপ্ত স্ক্যানু/এনআইসিইউ শয্যা, সিপ্যাপ সুবিধা, হাইপোথাইরয়েড নবজাতক স্ক্রিনিং ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী এবং কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। ফলে প্রতিরোধযোগ্য নবজাতক মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে।
বক্তারা বলেন, জন্মের সময় মা হারানো, পরিত্যক্ত এবং গুরুতর অসুস্থ নবজাতকদের জীবনরক্ষায় দেশের প্রথম শরিয়াহসম্মত হিউম্যান মিল্ক স্টোরেজ সেন্টার একটি সময়োপযোগী ও মানবিক উদ্যোগ। এটি নিরাপদ ও ধর্মীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য উপায়ে মানবদুগ্ধ সংরক্ষণ ও সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
গোলটেবিল বৈঠকে এনআইসিইউ ও সিপ্যাপ সুবিধা সম্প্রসারণ, কমিউনিটি ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার কার্যক্রম জোরদার, জরুরি নবজাতক রেফারেল ও পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, হাইপোথাইরয়েড নবজাতক স্ক্রিনিং চালু এবং জাতীয় নবজাতক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
ভোরের আকাশ/সু.পা



