কাশি সারাতে মধু কতটা কাজ করে? বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

ছবি: সংগৃহীত
মধু নানা ধরনের স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্যও পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে কাশির ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে মধু। তবে প্রশ্ন হলো, এটি কি সত্যিই কাশি কমাতে কার্যকর?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাশির উপসর্গ উপশমে মধু কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে হালকা ঊর্ধ্ব শ্বাসনালীর সংক্রমণের ক্ষেত্রে এটি গলার অস্বস্তি কমিয়ে সাময়িক স্বস্তি দিতে সাহায্য করে। মধুর ঘন ও আঠালো গঠন গলাকে আবৃত করে, ফলে কাশি উদ্দীপিত হওয়ার প্রবণতা কমে যায়। পাশাপাশি এতে থাকা প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদানও উপসর্গ উপশমে সহায়ক হতে পারে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মধু রাতের কাশির তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে এবং সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের ঘুমের মান উন্নত করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি বাজারে প্রচলিত কাশির ওষুধের সমান বা তার চেয়েও বেশি কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণেই অনেক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সাধারণ কাশির জন্য মধুকে নিরাপদ ও সহজলভ্য ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে বিবেচনা করেন।
বিএমজে জার্নালস-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, মধু শ্বাসতন্ত্রের উপরের অংশের সংক্রমণের উপসর্গ কমাতে সহায়তা করে। গবেষকরা আরও উল্লেখ করেছেন, মধুর ব্যবহার অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ কমাতে এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি হ্রাসে ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের মতে, মধু সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং অনেক ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প হিসেবে উপসর্গ উপশমে কাজে আসতে পারে।
কাশি কমাতে যেভাবে মধু খেতে পারেন
ঘুমানোর আগে এক থেকে দুই চা চামচ মধু খেলে বেশি উপকার মিলতে পারে।
মধু সরাসরি খাওয়া যেতে পারে।
গরম পানি, হালকা গরম দুধ বা ভেষজ চায়ের সঙ্গে মিশিয়েও মধু খাওয়া যায়।
এটি গলার জ্বালা ও অস্বস্তি কমিয়ে সাময়িক স্বস্তি দিতে সাহায্য করে।
তবে মনে রাখতে হবে, মধু কাশির মূল কারণ দূর করে না। ভাইরাল সংক্রমণ, অ্যালার্জি, হাঁপানি বা ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের চিকিৎসার বিকল্প নয় এটি। বরং শরীর সুস্থ হওয়ার সময় কাশির উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।
এ ছাড়া এক বছরের কম বয়সী শিশুদের কখনোই মধু খাওয়ানো উচিত নয়। কারণ এতে ইনফ্যান্ট বোটুলিজম নামের বিরল কিন্তু গুরুতর রোগের ঝুঁকি থাকতে পারে। একই সঙ্গে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও পরিমিত পরিমাণে মধু খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা, কারণ এটি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে।
ভোরের আকাশ/সু.পা



