পরামর্শ

কবজির ব্যথা কমাতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা

ছবি: সংগৃহীত

কবজির ব্যথা নিয়ে অনেককেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে দেখা যায়। বিশেষ করে বৃদ্ধাঙ্গুল ও তর্জনীর অংশে ব্যথা বেশি অনুভূত হয়। অনেক সময় বৃদ্ধাঙ্গুলের পাশ ঘেঁষে ওপরের দিকে ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে। কারও কারও রাতে হাত অবশ হয়ে আসে, এমনকি অস্থিরতায় ঘুমও ভেঙে যায়।

চিকিৎসকদের মতে, কবজি বা বৃদ্ধাঙ্গুলের ব্যথার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘ডিকোয়ারভ্যান টেনো-সাইনোভাইটিস’। কবজি থেকে বৃদ্ধাঙ্গুলের দিকে যে টেনডন থাকে, সেখানে প্রদাহ তৈরি হলে এই সমস্যা দেখা দেয়।

সাধারণত মধ্যবয়সী নারীদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা যায়। বিভিন্ন কারণে এই প্রদাহ হতে পারে। যেমন—আঘাত পাওয়া, হাত দিয়ে ভারী জিনিস তোলা, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, দীর্ঘ সময় একটানা লেখালেখি করা কিংবা দা, কোদাল বা কুড়াল দিয়ে কাটাকাটির মতো কাজ নিয়মিত করা।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সাধারণত রোগীর উপসর্গ ও শারীরিক পরীক্ষা করেই এ রোগ নির্ণয় করতে পারেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে কবজির এক্স-রে বা রক্ত পরীক্ষারও প্রয়োজন হতে পারে।

চিকিৎসার ক্ষেত্রে ওষুধের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে প্রদাহ কমাতে ইনজেকশনও দেওয়া হতে পারে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, কবজির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এমন কাজ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত। ভারী জিনিস তোলা, কাপড় চিপা, টিউবওয়েল চাপা, দীর্ঘ সময় একটানা লেখালেখি কিংবা ড্রিল মেশিন ব্যবহার না করাই ভালো। প্রয়োজনে কাজের সময় বিশেষ ধরনের সাপোর্ট ব্যান্ড ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কবজির ব্যথাকে অবহেলা না করে শুরুতেই সচেতন হলে এবং যথাসময়ে চিকিৎসা নিলে জটিলতা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

ভোরের আকাশ/সু.পা

কবজির ব্যথা কমাতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা | স্বাস্থ্য কথা