কর্মব্যস্ত জীবনে মানসিক সুস্থতা ধরে রাখার উপায়

ছবি: সংগৃহীত
ব্যস্ত জীবন, কাজের চাপ ও প্রতিদিনের নানা দুশ্চিন্তার ভিড়ে অনেকেই শারীরিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিলেও মানসিক বা আবেগীয় সুস্থতাকে গুরুত্ব দেন না। অথচ বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ মানসিক অবস্থা শুধু ভালো থাকার জন্যই নয়, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া, সম্পর্ক বজায় রাখা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট Health.com-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মার্কিন মনোবিজ্ঞানী ও থেরাপিস্ট ডা. কিরা গ্রেভস বলেন, আবেগীয় সুস্থতা বলতে সব সময় হাসিখুশি থাকা বোঝায় না। বরং নিজের অনুভূতি সঠিকভাবে বুঝতে পারা, তা স্বাস্থ্যকরভাবে প্রকাশ করা এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাই মানসিক সুস্থতার পরিচায়ক।
মানসিকভাবে সুস্থ মানুষের কিছু বৈশিষ্ট্য : বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিকভাবে সুস্থ ব্যক্তিরা সাধারণত—
ডায়েরি লেখা, শিল্পচর্চা বা সৃজনশীল কাজে আবেগ প্রকাশ করেন।
মানসিক চাপ কমাতে বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, ব্যায়াম করেন বা শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন করেন।
ব্যর্থতা বা প্রতিকূলতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যান।
নিজের অনুভূতি শান্ত, স্পষ্ট ও সম্মানজনকভাবে প্রকাশ করতে পারেন।
সম্পর্কের সমস্যার সমাধানে খোলামেলা আলোচনা ও সহানুভূতির পথ বেছে নেন।
অবহেলা করলে কী হতে পারে?
একই প্রতিবেদনে স্বাস্থ্যবিষয়ক লেখক লিন্ডসে কার্টিস বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি শুধু মনেই নয়, শরীরেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিন মানসিক চাপের মধ্যে থাকলে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এর ফলে মাথাব্যথা, হজমের সমস্যা, অনিদ্রা, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদ্রোগের মতো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। এ ছাড়া নিজের আবেগকে দীর্ঘদিন উপেক্ষা করলে একাকিত্ব, বিষণ্নতা এবং কর্মক্ষেত্রে মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে এটি কর্মক্ষমতা কমিয়ে ‘বার্নআউট’-এরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার ৫ উপায়
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নিয়মিত অভ্যাস মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ দিন: মাইন্ডফুলনেস বা সচেতন উপস্থিতির চর্চা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
সম্পর্ককে গুরুত্ব দিন: পরিবার, বন্ধু ও প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা মানসিক শক্তি বাড়ায়।
শারীরিক সুস্থতার যত্ন নিন: সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত ঘুম মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখুন: অতিরিক্ত কাজের চাপ এড়িয়ে ব্যক্তিগত সময় নিশ্চিত করুন।
নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন: দুঃখ, রাগ বা উদ্বেগকে অস্বীকার না করে স্বাস্থ্যকর উপায়ে প্রকাশ করার চেষ্টা করুন।
কখন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন?
ডা. কিরা গ্রেভসের মতে, যদি দীর্ঘদিন ধরে মন খারাপ, উদ্বেগ বা মানসিক চাপ দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করে, প্রিয় কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যায় অথবা ঘুমের ধরনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে, তাহলে দেরি না করে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী বা প্রশিক্ষিত থেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সচেতনতা: এই প্রতিবেদনটি সাধারণ স্বাস্থ্যসচেতনতার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। ব্যক্তিগত মানসিক বা শারীরিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার জন্য অবশ্যই একজন নিবন্ধিত চিকিৎসক বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
ভোরের আকাশ/সু.পা



