অতিরিক্ত হাঁচি কমাতে কার্যকর ৭ ঘরোয়া উপায়

ছবি: সংগৃহীত
অতিরিক্ত গরমে সর্দি-ঠান্ডার সমস্যা বেড়ে যায়, পাশাপাশি দেখা দিতে পারে অ্যালার্জির উপসর্গ। ধুলাবালি, পরাগরেণু, ঠান্ডা লাগা কিংবা অ্যালার্জি—বিভিন্ন কারণেই হাঁচি হতে পারে। দিনে এক-দুইবার হাঁচি হওয়া স্বাভাবিক। তবে হাঁচি যদি বারবার বা অনবরত হতে থাকে, তখন তা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ঘুম থেকে শুরু করে অফিসের কাজ, রাস্তায় চলাফেরা কিংবা দৈনন্দিন নানা কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে অতিরিক্ত হাঁচি। আসলে হাঁচি শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা। নাকের ভেতরে কোনো উত্তেজক পদার্থ প্রবেশ করলে শরীর সেটিকে বাইরে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। তাই প্রথমেই হাঁচির কারণ শনাক্ত করা জরুরি। ঠান্ডা লাগা, সংক্রমণ নাকি অ্যালার্জির কারণে হাঁচি হচ্ছে, তা জানা গেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়।
অনবরত হাঁচি হলে কিছু ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করে স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক—

গরম পানির ভাপ নিন : নাক বন্ধ, নাক দিয়ে পানি পড়া কিংবা বারবার হাঁচির সমস্যায় গরম পানির ভাপ বেশ উপকারী। অনেক সময় পানিশূন্যতার কারণে শ্লেষ্মা ঘন হয়ে গিয়ে সাইনাস ও নাকের বায়ুপথ বন্ধ করে দেয়। গরম ভাপ শ্লেষ্মা নরম করতে সাহায্য করে এবং নাকের ভেতরের শুষ্কতা কমায়। ফলে শ্বাস নিতে সুবিধা হয়। গরম পানি দিয়ে গোসল করলেও উপকার মিলতে পারে।
জিঙ্ক গ্রহণ করুন : জিঙ্ক শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। এটি রাইনোভাইরাসের বংশবৃদ্ধি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জিঙ্ক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে সর্দি, কাশি, নাক বন্ধ, নাক দিয়ে পানি পড়া ও হাঁচির মতো উপসর্গ কমতে পারে।
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খান : ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি ফ্রি র্যাডিকালের বিরুদ্ধে কাজ করে প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। তাই লেবু, কমলা, আমলকি, পেয়ারা ও অন্যান্য ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন।
গরম সেঁক দিন : নাক বন্ধ, হাঁচি বা সাইনাসজনিত অস্বস্তি কমাতে গরম সেঁক কার্যকর হতে পারে। গরম তাপমাত্রার সংস্পর্শে শ্লেষ্মা নরম হয় এবং জমে থাকা কফ বের হতে সাহায্য করে। একটি তোয়ালে গরম পানিতে ভিজিয়ে ভালোভাবে নিংড়ে মুখ ও নাকের আশপাশে সেঁক দিতে পারেন।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন : অনেক সময় পর্যাপ্ত বিশ্রামই অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে। ক্লান্ত শরীর অ্যালার্জেন বা আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। এছাড়া বিশ্রাম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। পর্যাপ্ত ঘুম কোষের মেরামত ও শরীরের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
আদা ও মধুর মিশ্রণ : আদায় থাকা প্রদাহরোধী উপাদান—জিঞ্জেরল ও শোগায়োল—গলা ও নাকের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে মধু প্রাকৃতিক অ্যান্টিহিস্টামিন হিসেবে কাজ করে, যা ধুলাবালি ও অ্যালার্জিজনিত হাঁচি কমাতে সহায়ক হতে পারে। হালকা গরম পানিতে আদা ও মধু মিশিয়ে পান করলে অনেকেই আরাম পান।
বেশি করে তরল খাবার খান : শরীরে পানির ঘাটতি হলে নাক ও গলার ভেতরের অংশ শুকিয়ে যেতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। পাশাপাশি ডাবের পানি, পাতলা স্যুপ এবং গরম ভেষজ চা পান করলেও উপকার পাওয়া যেতে পারে। এসব পানীয় নাক ও গলার ভেতরের অংশ আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে এবং সংক্রমণের প্রভাব কমাতে সহায়তা করে।
ভোরের আকাশ/সু.পা



