স্বাস্থ্য প্রশাসন

প্রস্রাবের এই লক্ষণগুলো ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে

ছবি: সংগৃহীত

দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততায় শরীরের ছোটখাটো অস্বস্তিকে অনেকেই গুরুত্ব দেন না। প্রস্রাবের সময় সামান্য জ্বালাপোড়া, রাতে বারবার বাথরুমে যাওয়া কিংবা কোমরের নিচের দিকে হালকা ব্যথাকে সাধারণ ক্লান্তি, পানিশূন্যতা বা বয়সজনিত সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান অনেকে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন সাধারণ উপসর্গও অনেক সময় বড় রোগের আগাম সতর্কবার্তা হতে পারে। বিশেষ করে মূত্রনালি, মূত্রাশয়, কিডনি কিংবা প্রোস্টেট ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে এসব সমস্যা দেখা দিতে পারে।

নীরবে বাড়তে পারে বিপদ
মূত্রতন্ত্রের ক্যানসার সাধারণত ধীরে ও নিঃশব্দে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগটি প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা অনেক সহজ ও কার্যকর হয়। কিন্তু অবহেলার কারণে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসা জটিল হয়ে ওঠে এবং শারীরিক ও আর্থিক—দুই দিক থেকেই বড় চাপ তৈরি হয়।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রস্রাবে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত—
প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া
ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হওয়া, বিশেষ করে রাতে
প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা
প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হওয়া
প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হয়ে যাওয়া
প্রস্রাব করার পরও অসম্পূর্ণ মনে হওয়া
তলপেট বা কোমরের নিচে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা থাকা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যথা ছাড়াই যদি একবারও প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত দেখা যায়, সেটিকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।

দ্রুত শনাক্তকরণ কেন জরুরি
রেডিয়েশন অনকোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. অনিল থাকওয়ানির মতে, অনেকেই বয়সজনিত সমস্যা ভেবে এসব উপসর্গ লুকিয়ে রাখেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এমন সমস্যা চলতে থাকলে তা মূত্রতন্ত্রের ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে। তিনি জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে সার্জারি বা রেডিয়েশনের মাধ্যমে সফল চিকিৎসার সুযোগ অনেক বেশি থাকে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে
চিকিৎসকদের মতে, ৫০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি, ধূমপায়ী এবং রাসায়নিক কারখানায় কাজ করেন—এমন মানুষের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে ধূমপান মূত্রাশয় ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এছাড়া পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস থাকলেও বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

সচেতনতাই হতে পারে সুরক্ষা
সমাজে অনেকেই প্রস্রাবজনিত সমস্যা নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে সংকোচ বোধ করেন। এই লজ্জা ও অবহেলার কারণেই অনেক সময় রোগ দেরিতে ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, শরীরের অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ। কারণ সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া গেলে অনেক ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী রোগ থেকেও সুস্থ হওয়া সম্ভব। তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

ভোরের আকাশ/সু.পা

প্রস্রাবের এই লক্ষণগুলো ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে | স্বাস্থ্য কথা