পরামর্শ

রাত জাগা ও দেরিতে খাওয়ার অভ্যাস বাড়াচ্ছে স্থূলতার ঝুঁকি

ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক জীবনযাত্রায় রাত জাগা এখন অনেকের নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কর্মব্যস্ততা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার কিংবা বিনোদনের আকর্ষণে অনেকেই গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন। কিন্তু এই অভ্যাস অজান্তেই শরীরে তৈরি করছে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, গভীর রাতে খাবার গ্রহণের অভ্যাস (নাইট ইটিং) এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব সরাসরি স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত। দীর্ঘমেয়াদে এটি ডায়াবেটিস ও হৃদ্রোগের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে।

জৈবিক ঘড়ি ও বিপাক প্রক্রিয়ার সম্পর্ক
মানবদেহে একটি নির্দিষ্ট জৈবিক ঘড়ি বা বায়োলজিক্যাল ক্লক রয়েছে, যা দিন-রাতের স্বাভাবিক ছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করে। এই সার্কাডিয়ান রিদম নির্ধারণ করে কখন শরীর সক্রিয় থাকবে এবং কখন বিশ্রাম নেবে। রাতের সময় শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া বা মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়। এ সময়ে ভারী বা অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে শরীর তা কার্যকরভাবে শক্তিতে রূপান্তর করতে পারে না। ফলে অতিরিক্ত ক্যালরি চর্বি হিসেবে জমা হতে শুরু করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, একই পরিমাণ খাবার দিনের তুলনায় রাতে গ্রহণ করলে ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা বেশি থাকে। কারণ রাতে শরীরের শক্তি ব্যয়ের হার কমে যায় এবং খাবারের বিপাক প্রক্রিয়াও ধীরগতিতে সম্পন্ন হয়।

ঘুমের ঘাটতিতে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ক্ষুধা ও তৃপ্তি নিয়ন্ত্রণকারী দুটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন—ঘ্রেলিন ও লেপ্টিনের ভারসাম্য নষ্ট হয়।

ঘ্রেলিন: এই হরমোন মস্তিষ্কে ক্ষুধার সংকেত পাঠায়। ঘুম কম হলে শরীরে ঘ্রেলিনের মাত্রা বেড়ে যায়, ফলে বেশি ক্ষুধা অনুভূত হয়।

লেপ্টিন: এটি শরীরকে পেট ভরে যাওয়ার সংকেত দেয়। ঘুমের ঘাটতিতে লেপ্টিনের মাত্রা কমে যায়, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।

এ কারণে রাত জাগলে অনেকের মিষ্টি, ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যায়। পাশাপাশি ঘুমের অভাবে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে, যা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি করে এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

সুস্থ থাকতে যেসব অভ্যাস জরুরি
রাতের খাবারের সময় ঠিক করুন: ঘুমানোর অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করার চেষ্টা করুন। সম্ভব হলে রাত ৯টার মধ্যে রাতের খাবার শেষ করা ভালো।

ঘুমের আগে গ্যাজেট ব্যবহার কমান: বিছানায় যাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল, ল্যাপটপ ও টিভির স্ক্রিন থেকে দূরে থাকুন। এতে গভীর ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুমে সহায়তা করে।

পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন: প্রতিদিন রাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন।

মধ্যরাতের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করুন: রাতে হালকা ক্ষুধা লাগলে চিপস বা মিষ্টিজাতীয় খাবারের পরিবর্তে পানি, অল্প টকদই কিংবা কয়েকটি কাঠবাদাম খেতে পারেন।

স্থূলতা শুধু বেশি খাবার খাওয়ার কারণে হয় না; কখন খাবার খাচ্ছেন এবং কতটুকু ঘুমাচ্ছেন, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সুস্থ জীবনযাপনের জন্য রাত জাগার অভ্যাস কমিয়ে সঠিক সময়ে খাবার গ্রহণ ও পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ভোরের আকাশ/সু.পা

রাত জাগা ও দেরিতে খাওয়ার অভ্যাস বাড়াচ্ছে স্থূলতার ঝুঁকি | স্বাস্থ্য কথা