পরামর্শ

সহজেই ব্যাক পেইন কমানোর উপায়

ছবি: সংগৃহীত

পিঠ বা কোমরের ব্যথা (ব্যাক পেইন) বর্তমান সময়ে একটি অত্যন্ত সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কোন চোট থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন রোগের কারণে এই সমস্যা হতে পারে। দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কিছু নিয়ম পালনের মাধ্যমে এই ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

ভোরের আকাশ পাঠকদের জন্য ব্যাক পেইন কমানোর ৮টি উপায় দেওয়া হল :

পেশি শক্তিশালী করা জরুরি : আমাদের শরীরের ওপরের অংশের পুরো ওজন বহন করে নিচের পিঠ বা কোমর। তাই মেরুদণ্ডকে সঠিকভাবে সমর্থন দিতে আশপাশের পেশিগুলোকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। দৈনন্দিন কাজে এই পেশিগুলোর ব্যবহার কম হয়, তাই নিয়মিত নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়ামের মাধ্যমে এগুলো সক্রিয় রাখা উচিত।

প্রতিদিন স্ট্রেচিং করার অভ্যাস গড়ে তুলুন : পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া পিঠের ব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ। পেশি নমনীয় না থাকলে মেরুদণ্ড ও হাড়ের সংযোগস্থলে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। তাই মেরুদণ্ড সুস্থ রাখতে প্রতিদিন নিয়ম করে স্ট্রেচিং করা জরুরি।

বসার সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখুন : ভুল ভঙ্গিতে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে মেরুদণ্ডের ডিস্কের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে, যা দাঁড়িয়ে থাকার তুলনায় বেশি ক্ষতিকর। তাই একটানা বসে না থেকে মাঝে মাঝে উঠে হাঁটাচলা করা ভালো।

নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস করুন : হাঁটা শরীরের জন্য সহজ, নিরাপদ এবং কার্যকর ব্যায়াম। প্রতিদিন দ্রুত গতিতে হাঁটলে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে, ফলে পিঠের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমে।

ভারি জিনিস তোলার সময় সতর্ক থাকুন : ভুলভাবে ভারি কিছু তুললে শরীরে মোচড় লাগে এবং পেশিতে টান পড়ে তীব্র ব্যথা হতে পারে। তাই কোনো কিছু তোলার সময় পিঠে চাপ না দিয়ে পায়ের পেশির সাহায্য নিন এবং প্রয়োজন হলে অন্যের সহায়তা নিন।

ঘুমানোর সঠিক ভঙ্গি অনুসরণ করুন : সোজা হয়ে চিৎ হয়ে ঘুমালে মেরুদণ্ডে চাপ সৃষ্টি হতে পারে। এ অবস্থায় হাঁটুর নিচে একটি বালিশ রাখলে চাপ কমে। আর কাত হয়ে ঘুমালে দুই হাঁটুর মাঝখানে বালিশ রাখলে পিঠ আরাম পায়।

জন নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন : অতিরিক্ত ওজন পিঠের পেশি ও মেরুদণ্ডের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। এতে মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হতে পারে বা একদিকে বেঁকে যেতে পারে। তাই পিঠ সুস্থ রাখতে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

ধূমপান পরিহার করুন : ধূমপান মেরুদণ্ডের ডিস্কে রক্ত সঞ্চালন কমিয়ে দেয়, ফলে তা দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। পাশাপাশি এটি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ কমায় এবং নতুন হাড় গঠনে বাধা দেয়, যা হাড়ের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে সঠিক জীবনযাপন মেনে চললে পিঠের ব্যথা অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব। আর ব্যথা গুরুতর হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তথ্যসূত্র: ইউসি ডেভিস

ভোরের আকাশ/সু.পা

সহজেই ব্যাক পেইন কমানোর উপায় | স্বাস্থ্য কথা | ভোরের আকাশ