শিশুকে কলা খাওয়ানোর উপকারিতা ও সঠিক নিয়ম

ছবি: সংগৃহীত
অনেক অভিভাবকের ধারণা, কলা খেলে শিশু সর্দি-কাশি বা ঠান্ডায় আক্রান্ত হয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এ ধারণার পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, কলা সরাসরি ঠান্ডা, সর্দি বা ইনফ্লুয়েঞ্জার কারণ নয়। বরং এটি একটি পুষ্টিকর ফল, যা শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কলা কি সত্যিই সর্দি-কাশির কারণ?
প্রচলিত বিশ্বাস ও আয়ুর্বেদে কলাকে ‘শীতল প্রকৃতির’ ফল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই রাতে বা ঠান্ডা আবহাওয়ায় কলা খেলে কিছু মানুষের শরীরে শীতল অনুভূতি হতে পারে। আবার যেসব শিশুর আগে থেকেই সর্দি বা কাশি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে কলা খাওয়ার পর শ্লেষ্মা কিছুটা বেড়েছে বলে মনে হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে কলা সর্দি-কাশি সৃষ্টি করে।
চিকিৎসকদের মতে, কলায় থাকা পটাশিয়াম, ফাইবার, ভিটামিন সি ও ভিটামিন বি৬ শরীরের জন্য উপকারী এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। এ ছাড়া কলায় এমন কোনো উপাদান নেই, যা সরাসরি ঠান্ডা বা ইনফ্লুয়েঞ্জা সৃষ্টি করে। বিশ্বের অনেক দেশেই শিশুদের জন্য কলাকে আদর্শ স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
কখন কলা খাওয়ানোর ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন?
যদি শিশুর আগে থেকেই সর্দি, কাশি বা শ্বাসকষ্ট থাকে, তাহলে কলা খাওয়ার পর শ্লেষ্মা কিছুটা বেড়েছে বলে অনুভূত হতে পারে। এ সময় প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবার নির্বাচন করা ভালো।
এ ছাড়া রাতে অতিরিক্ত পরিমাণে কলা না খাওয়ানো এবং ফ্রিজে রাখা ঠান্ডা কলা সরাসরি খাওয়ানো এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ খুব ঠান্ডা খাবার কিছু শিশুর গলায় অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
কখন কলা খাওয়ানো ভালো?
বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের বেলা বা সকালের নাস্তায় কলা খাওয়ানো সবচেয়ে উপযোগী। চাইলে গরম দুধ বা অন্য গরম খাবারের সঙ্গে খাওয়ানো যেতে পারে। গরমের সময় শরীর সতেজ রাখতেও কলা উপকারী।
কোন বয়স থেকে শিশুকে কলা খাওয়ানো যাবে?
শিশুর ৬ মাস পূর্ণ হওয়ার পর থেকে ম্যাশ বা পেস্ট করে কলা খাওয়ানো যায়। এক বছর বয়সের পর ছোট ছোট টুকরো করে খাওয়ানো নিরাপদ। স্কুলগামী শিশুদের জন্যও কলা একটি স্বাস্থ্যকর ও সহজলভ্য নাস্তা।
প্রতি ১০০ গ্রাম কলায় যেসব পুষ্টি উপাদান রয়েছে-
শক্তি: ৮৯ ক্যালরি—দ্রুত শক্তি জোগায়।
প্রোটিন: ১.১ গ্রাম—পেশি গঠনে সহায়তা করে।
চর্বি: ০.৩ গ্রাম—কম চর্বিযুক্ত হওয়ায় ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
কার্বোহাইড্রেট: ২২.৮ গ্রাম—শরীরের প্রধান শক্তির উৎস।
ফাইবার: ২.৬ গ্রাম—হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়।
প্রাকৃতিক চিনি: ১২.২ গ্রাম—স্বাস্থ্যকর শক্তির উৎস।
ভিটামিন সি: ৮.৭ মিলিগ্রাম—রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
ভিটামিন বি৬: ০.৪ মিলিগ্রাম—মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ও রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়ক।
ফোলেট (ভিটামিন বি৯): ২০ মাইক্রোগ্রাম—কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজনে গুরুত্বপূর্ণ।
পটাশিয়াম: ৩৫৮ মিলিগ্রাম—রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও হৃদ্যন্ত্রের সুস্থতায় সহায়ক।
ক্যালসিয়াম: ৫ মিলিগ্রাম—হাড় ও দাঁতের গঠনে ভূমিকা রাখে।
ম্যাগনেসিয়াম: ২৭ মিলিগ্রাম—পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে।
ফসফরাস: ২২ মিলিগ্রাম—হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে সাহায্য করে।
আয়রন: ০.৩ মিলিগ্রাম—হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সহায়ক।
জিংক: ০.১৫ মিলিগ্রাম—রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।
সোডিয়াম: ১ মিলিগ্রাম—শরীরের তরল ও ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়ানো শিশুদের জন্য নিরাপদ ও উপকারী। তবে শিশুর কোনো বিশেষ স্বাস্থ্যসমস্যা বা খাদ্যসংক্রান্ত জটিলতা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই উত্তম।
ভোরের আকাশ/সু.পা



