শিশুর ক্ষুধা বাড়াতে যেসব অভ্যাস গড়ে তুলবেন

ছবি: সংগৃহীত
শিশু খাবার খেতে না চাইলে বেশিরভাগ অভিভাবকই দুশ্চিন্তায় পড়েন। তবে মনে রাখতে হবে, শিশুর অরুচি অনেক সময়ই সাময়িক এবং স্বাভাবিক। সব ধরনের অরুচিই কোনো রোগের লক্ষণ নয়। তাই প্রথমে অরুচির কারণ খুঁজে বের করতে হবে, এরপর ধীরে ধীরে সঠিক অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর খাবারে অরুচির অন্যতম সাধারণ কারণ হলো অনিয়মিত খাবারের সময়, অতিরিক্ত নাস্তা, চিপস-চকলেট ও কোমল পানীয় খাওয়ার অভ্যাস, খাবারের সময় মোবাইল বা টেলিভিশন দেখা এবং জোর করে খাওয়ানোর অভিজ্ঞতা। এ ছাড়া দাঁত ওঠার সময়, সর্দি-কাশি, জ্বরের পরবর্তী সময়, কৃমি সংক্রমণ, কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবেও শিশুর ক্ষুধা কমে যেতে পারে।
নির্দিষ্ট সময়ে খাবার দিন
শিশুর জন্য প্রতিদিন তিন বেলা প্রধান খাবার এবং দুই বেলা স্বাস্থ্যকর নাস্তার নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে দিন। নির্ধারিত সময়ের বাইরে বারবার খাবার, জুস বা মিষ্টি পানীয় দিলে ক্ষুধা কমে যেতে পারে।

প্রধান খাবারের আগে টিফিন নয়
মূল খাবারের আগে বিস্কুট, চিপস বা অন্যান্য টিফিন খেলে শিশু সাধারণত ভাত বা প্রধান খাবার খেতে চায় না। তাই প্রধান খাবারের আগে এসব খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।
খাবারের সময় মোবাইল-টিভি বন্ধ রাখুন
খাবারের সময় শান্ত ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এ সময় মোবাইল, টেলিভিশন বা কার্টুন বন্ধ রাখুন। পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে খেলে শিশু অন্যদের দেখে খেতে শেখে এবং খাবারের প্রতি আগ্রহও বাড়ে।
জোর করে খাওয়াবেন না
জোর করে খাওয়ানো শিশুর মধ্যে খাবারের প্রতি বিরূপ মনোভাব তৈরি করতে পারে। তাই একবারে অল্প পরিমাণ খাবার পরিবেশন করুন। না খেতে চাইলে জোর না করে কিছুক্ষণ পর আবার খাবার দিন। ক্ষুধা লাগলে অধিকাংশ শিশুই নিজে থেকেই খেতে শুরু করে।

নাস্তায় আনুন স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন
প্রতিদিন চিপস, কেক বা বিস্কুটের বদলে ফল, দই, সেদ্ধ ডিম, ভাজা ছোলা কিংবা ঘরে তৈরি পুষ্টিকর নাস্তা দিন। এগুলো শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষুধাও নষ্ট করে না।
খাবারে বৈচিত্র্য আনুন
একই ধরনের খাবার প্রতিদিন দিলে শিশু বিরক্ত হয়ে যেতে পারে। তাই একই উপকরণ দিয়ে ভিন্ন ভিন্নভাবে রান্না করুন। যেমন—একদিন ডিম ভাজি, আরেকদিন ডিমের কারি, অন্যদিন ডিম খিচুড়ি। খাবার আকর্ষণীয়ভাবে পরিবেশন করলে শিশুর আগ্রহও বাড়ে।
খেলাধুলা ক্ষুধা বাড়ায়
নিয়মিত খেলাধুলা, দৌড়ঝাঁপ ও বাইরে সময় কাটানো শিশুর ক্ষুধা বাড়াতে সহায়তা করে। অন্যদিকে সারাদিন ঘরে বসে থাকা বা অতিরিক্ত স্ক্রিনে সময় কাটালে ক্ষুধা কমে যেতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
অরুচির সঙ্গে যদি শিশুর ওজন না বাড়ে, অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দেয়, বারবার অসুস্থ হয়, দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেটব্যথা থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজনে কৃমির চিকিৎসা, আয়রনের ঘাটতি বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যসমস্যার চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
ভোরের আকাশ/সু.পা



