চিকিৎসক

শুধু ক্যালরি নয়, ভিটামিন বি-১২ ও ডি’র অভাবেও বাড়াতে পারে ক্ষুধা

ছবি: সংগৃহীত

অনেকেই ভরপেট খাওয়ার পরও অল্প সময়ের মধ্যে আবার ক্ষুধা অনুভব করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় ‘হিডেন হাঙ্গার’ বা লুকানো ক্ষুধা। এটি এমন এক ধরনের পুষ্টিগত সমস্যা, যেখানে শরীরে পর্যাপ্ত ক্যালরি থাকলেও প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতির কারণে বারবার ক্ষুধা লাগে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আয়রন, জিঙ্ক, ভিটামিন বি১২ ও ভিটামিন ডি-সহ বিভিন্ন অণুপুষ্টির অভাব থাকলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। বাইরে থেকে সহজে বোঝা না গেলেও শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, পুষ্টির ঘাটতির কারণে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, ভিটামিন ডি-এর অভাব হলে লেপটিন নামের হরমোনের কার্যকারিতা কমে যায়। এই হরমোন মস্তিষ্ককে জানায় যে পেট ভরে গেছে। কিন্তু এর কার্যকারিতা কমে গেলে মস্তিষ্ক সেই সংকেত ঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারে না। ফলে পর্যাপ্ত খাবার খাওয়ার পরও ক্ষুধা অনুভূত হতে থাকে।

জিঙ্ক শরীরের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর ঘাটতি হলে দীর্ঘ সময় ক্ষুধা লাগতে পারে। অন্যদিকে, বি-ভিটামিন, বিশেষ করে ফোলেট, শরীরে কার্বোহাইড্রেট ও চর্বি ভাঙতে সহায়তা করে। এই পুষ্টি উপাদানের অভাবে অস্বাভাবিক ক্ষুধা এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। এছাড়া ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি অ্যানিমিয়া ও বিষণ্ণতার মতো সমস্যারও কারণ হতে পারে।

ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতিতে সরাসরি ক্ষুধা না বাড়লেও চিনি বা জাঙ্ক ফুডের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। অনেক সময় পানিশূন্যতা, ক্লান্তি কিংবা পুষ্টির ঘাটতিকে মানুষ ক্ষুধা বলে ভুল করেন।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক ক্ষুধা লাগা টাইপ–২ ডায়াবেটিস বা অতিসক্রিয় থাইরয়েডের মতো রোগের লক্ষণও হতে পারে। তাই সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করা জরুরি। মাংস, মাছ, শেলফিশ, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, লাল কিডনি বিন, বিভিন্ন ধরনের বাদাম এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার আয়রন, জিঙ্ক ও বি-ভিটামিনের ভালো উৎস। পাশাপাশি শরীরে ভিটামিন ডি-এর চাহিদা পূরণে নিয়মিত পর্যাপ্ত সূর্যালোক গ্রহণেরও পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজনীয় অণুপুষ্টির ঘাটতি শনাক্ত করে তা পূরণ করা গেলে ‘হিডেন হাঙ্গার’ বা দীর্ঘস্থায়ী ক্ষুধার সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

ভোরের আকাশ/সু.পা

শুধু ক্যালরি নয়, ভিটামিন বি-১২ ও ডি’র অভাবেও বাড়াতে পারে ক্ষুধা | স্বাস্থ্য কথা