স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্ব দিয়ে বিএমইউর নতুন বাজেট

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা, মেডিকেল শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা ও প্রশিক্ষণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বুধবার (১৭ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ কমিটির ১১৯তম সভায় এ তথ্য জানানো হয়। বিএমইউর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতারের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জানানো হয়, ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের লক্ষ্যে প্রস্তুত করা হচ্ছে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট। এতে স্বাস্থ্যসেবা, মেডিকেল শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা ও প্রশিক্ষণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত বাজেটের মিশন ও ভিশনে উল্লেখ করা হয়েছে— ‘সেবায় শ্রেষ্ঠতা, শিক্ষা ও গবেষণায় বিশ্বমান হোক দৃশ্যমান। স্বাস্থ্যসেবায় প্রাধিকার হোক সবার অধিকার। ব্যয় হ্রাস অনুক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন।’
সভায় ৫৯টি নিজস্ব বিভাগ এবং ৫৫টি অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজ ও ইনস্টিটিউট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিএমইউকে পূর্ণাঙ্গ গবেষণাধর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে অবস্থান উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট, উন্নয়ন বাজেট এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় নতুন কার্যক্রম চালু ও বাস্তবায়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ফলপ্রসূতা নিশ্চিত করে একটি সুষম বাজেট প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয় সভায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা, এবারের প্রস্তাবিত বাজেট গত অর্থবছরের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে এক হাজার কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।
সভায় কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার সংশোধিত ও প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। চলতি মাসে অনুষ্ঠিতব্য সিন্ডিকেট সভায় বাজেটটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
বিএমইউর পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) এবং অর্থ কমিটির সদস্যসচিব খন্দকার শফিকুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বাজেট নিয়ে মতামত ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোস্তফা কামাল, মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ, নিউরোসার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. মওদুদুল হক এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অর্থ ও হিসাব বিভাগের সাবেক পরিচালক মো. রেজাউল করিম হাওলাদারসহ সংশ্লিষ্টরা বক্তব্য দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, অর্থ কমিটির সভায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট স্বচ্ছতার সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং আগামী সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদনের জন্য তা উত্থাপন করা হবে।
তিনি বলেন, এবারের বাজেটে এমন কিছু উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড (ইএমআর) চালু করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি অফিসগুলোকে ধীরে ধীরে পেপারলেস ব্যবস্থার আওতায় আনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
উপাচার্য বলেন, হাসপাতালের পরিবেশ আরও স্বাস্থ্যসম্মত ও নান্দনিক করতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল শাখাকে আরও কার্যকর ও গতিশীল হতে হবে। একই সঙ্গে লিফট ও লিনিয়ার এক্সিলারেটরসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবাসমূহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, চুক্তিভিত্তিক জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম রোগী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে নিয়মিত মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে। চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের কার্যক্রমও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার (ইন্টারনাল অডিট) আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া রোগীদের ভোগান্তি কমাতে বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালের আল্ট্রাসাউন্ড সেবা আরও সহজলভ্য ও সমন্বিতভাবে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
উপাচার্য বলেন, জাতীয় স্বাস্থ্য বাজেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন এবং রোগীদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে উদ্ভাবনী উদ্যোগ, আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন, রোবটিক সার্জারি চালু এবং নতুন নতুন চিকিৎসা প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও জোর দেন তিনি।
সভায় পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) খন্দকার শফিকুল হাসান জানান, ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের রেডিওথেরাপি সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নতুন একটি লিনিয়ার এক্সিলারেটর মেশিন কেনার প্রস্তাব বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ সময় আরও জানানো হয়, লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন ও পূর্ণাঙ্গ বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন চালুসহ জীবনরক্ষাকারী আধুনিক চিকিৎসাসেবাগুলো বাস্তবায়নের বিষয়েও প্রস্তাবিত বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা



