স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে ‘ক্রিটিক্যাল কেয়ার কোর্স’ চালুর আহ্বান সমাজ কল্যান মন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
দেশের স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত ও কার্যকর করতে প্রতিটি পুরোনো মেডিকেল কলেজে দ্রুত ‘ক্রিটিক্যাল কেয়ার’ (নিবিড় পরিচর্যা) কোর্স চালুর আহ্বান জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন (বিএসসিসিএম)-এর জাতীয় সম্মেলন–২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে মন্ত্রী বলেন, সময়ের চাহিদা ও জনগণের কল্যাণে চিকিৎসার প্রতিটি বিভাগকে নিজস্বভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে বিভিন্ন বিশেষায়িত কোর্স সম্প্রসারণের মাধ্যমে দক্ষ চিকিৎসক ও জনবল তৈরি করতে হবে।
তিনি ২০০৪ সালের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বলেন, তৎকালীন বিএনপি সরকারের সময়ে মেডিকেল কলেজ ও পোস্টগ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউটে নতুন নতুন সাবজেক্ট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যা তখন সমালোচনার মুখে পড়লেও পরবর্তীতে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। তার মতে, ওই উদ্যোগ না থাকলে বর্তমান সময়ে বিপুল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে যেত, এমনকি কোভিড মহামারির সময়েও সেই প্রশিক্ষিত জনবল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন আরও বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়েই দেশে প্রথম ক্রিটিক্যাল কেয়ার কোর্স চালুর দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, ওই সময় দেশনেত্রীর নির্দেশে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মায়ো ক্লিনিক, সিডিসি আটলান্টা, জনস হপকিন্সসহ ১৪টি বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে ফিরে এসে নার্সিং ব্যবস্থা উন্নয়ন, উন্নত ইমার্জেন্সি সেবা এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ারের ঘাটতি পূরণে গুরুত্বারোপ করা হয়, যা পরবর্তীতে বাস্তবায়িত হয়।
চিকিৎসা ব্যবস্থার বিভিন্ন বিভাগের সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, অ্যানেস্থেসিওলজি ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার একে অপরের প্রতিযোগী নয়, বরং পরিপূরক। কোনো একটি বিভাগ এককভাবে স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনা করতে পারে না; সব বিভাগের সমন্বিত কার্যক্রমই একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলে।
অনুষ্ঠানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ডা. জোবায়দা রহমান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) প্রধান উপদেষ্টা ফরহাদ হালিম ডোনার এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ অন্যান্য অতিথিরা।
ভোরের আকাশ/সু.পা



