ত্বক, হজম ও রোগ প্রতিরোধে কাঁচা হলুদের উপকারিতা

ছবি: সংগৃহীত
প্রাচীনকাল থেকেই রান্নার মসলা ও ভেষজ উপাদান হিসেবে কাঁচা হলুদের ব্যবহার হয়ে আসছে। এতে থাকা কারকিউমিনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান শরীরের জন্য নানা উপকার বয়ে আনতে পারে। এ কারণে অনেকেই সকালে খালি পেটে এক টুকরো কাঁচা হলুদ চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছেন। তবে এটি কোনো রোগের নিশ্চিত চিকিৎসা নয়; বরং সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করলে কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া যেতে পারে।
হজমে সহায়ক : সকালে কাঁচা হলুদ খেলে হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি গ্যাস, পেট ফাঁপা ও বদহজমের মতো সাধারণ সমস্যা কমাতেও কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে।
ত্বকের সতেজতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে : কাঁচা হলুদে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিকেলের প্রভাব কমাতে সহায়ক হতে পারে। ফলে ত্বক সুস্থ ও সতেজ রাখতে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রদাহ কমাতে সহায়ক : হলুদের কারকিউমিন উপাদান প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। তাই এটি জয়েন্টের ব্যথা ও ফোলাভাব কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে : কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, হলুদের উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত বা অতিরিক্ত কাঁচা হলুদ খাওয়া উচিত নয়।
লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়ক : পরিমিত পরিমাণে কাঁচা হলুদ লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে এবং শরীরের বিপাকক্রিয়া সচল রাখতে সহায়তা করতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক : কাঁচা হলুদের কারকিউমিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখতে সহায়তা করতে পারে। নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করলে মৌসুমি সর্দি-কাশি এবং কিছু সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
যাদের পিত্তথলির সমস্যা, কিডনিতে পাথর রয়েছে বা যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করেন, তাদের নিয়মিত কাঁচা হলুদ খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এছাড়া অতিরিক্ত কাঁচা হলুদ খেলে পেটের অস্বস্তি, অম্লতা বা অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই যেকোনো ভেষজ উপাদানের মতো কাঁচা হলুদও পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ। সূত্র : আনন্দবাজার
ভোরের আকাশ/সু.পা



