যেসব লক্ষণে বুঝবেন লিভারে সমস্যা, লিভার ভালো রাখতে করণীয়

ছবি: সংগৃহীত
মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো লিভার। খাবার হজমে সহায়তা করা থেকে শুরু করে শরীর থেকে বর্জ্যপদার্থ অপসারণ—গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজই করে এই অঙ্গটি। তাই লিভার সুস্থ না থাকলে পুরো শরীরের কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। এমনকি লিভারের জটিল রোগ প্রাণঘাতীও হয়ে উঠতে পারে।
স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিষ্ঠান পিআইএইচ হেলথের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিভারের সমস্যা শুরুতে অনেক সময় স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে না। তবে কিছু সাধারণ উপসর্গই হতে পারে গুরুতর রোগের পূর্বাভাস। তাই সময় থাকতে সতর্ক হওয়া জরুরি।
লিভারের সাধারণ রোগ
লিভারের বিভিন্ন রোগের মধ্যে অন্যতম হলো ভাইরাল হেপাটাইটিস। হেপাটাইটিস এ, বি ও সি ভাইরাস লিভারে প্রদাহ তৈরি করে এবং ধীরে ধীরে এর কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। এ ছাড়া সিরোসিস হলে লিভারে স্থায়ী দাগ তৈরি হয়। সুস্থ টিস্যুর জায়গায় দাগ জমতে থাকলে একসময় লিভার স্বাভাবিকভাবে কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারে।
বর্তমানে ফ্যাটি লিভারের সমস্যাও দ্রুত বাড়ছে। অতিরিক্ত ওজন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এর প্রধান কারণ। অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারও হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে লিভারে ক্যানসার দেখা দিতে পারে। আবার শরীরের অন্য কোনো অংশের ক্যানসারও লিভারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
যেসব উপসর্গ অবহেলা করবেন না
চিকিৎসকদের মতে, নিচের উপসর্গগুলো দেখা দিলে দ্রুত সতর্ক হওয়া উচিত—
১. চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)
২. পেটব্যথা বা পেট ফুলে যাওয়া
৩. সহজেই শরীরে কালশিটে পড়ে যাওয়া
৪. ত্বকে চুলকানি
৫. পা বা গোড়ালি ফুলে যাওয়া
৬. হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া
৭. ক্ষুধামন্দা
৮. বমি বমি ভাব বা বমি
৯. অতিরিক্ত দুর্বলতা বা ক্লান্তি
১০. সাদা বা ফ্যাকাশে রঙের পায়খানা
১১. রক্তচাপ কমে যাওয়া
১২. ভারসাম্য হারানো বা বিভ্রান্তি
১৩. হাত কাঁপা বা শরীরে কম্পন হওয়া
তবে এসব উপসর্গ অন্য রোগের কারণেও হতে পারে। তাই কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কীভাবে শনাক্ত করা হয়
লিভারের সমস্যা শনাক্তে সাধারণত রক্ত পরীক্ষা করা হয়। প্রয়োজনে আলট্রাসনোগ্রাম, সিটি স্ক্যান, এমআরআই কিংবা বায়োপসিও করতে হতে পারে।
লিভার ভালো রাখতে যা করবেন
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী লিভার সুস্থ রাখতে কিছু অভ্যাস মেনে চলা জরুরি—
অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলুন
ধূমপান ও মাদক থেকে দূরে থাকুন
নিরাপদ যৌন সম্পর্ক বজায় রাখুন
অন্যের রেজর বা ব্যক্তিগত জিনিস ব্যবহার করবেন না
ওষুধ খাওয়ার আগে সতর্কতা জেনে নিন
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত ওষুধ বা ভিটামিন গ্রহণ করবেন না
স্বাস্থ্যকর খাবার খান
নিয়মিত শরীরচর্চা করুন
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস বহন করছেন। প্রতিবছর এ রোগে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। সংস্থাটি বলছে, সময়মতো টিকা, পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে অধিকাংশ মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব। বাংলাদেশেও হেপাটাইটিস বি ও সি সংক্রমণের হার উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই এই নীরব ঘাতকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
ভোরের আকাশ/সু.পা



