সাদমানের চোট, হাসানের জোড়া আঘাতে সিলেট টেস্টে রোমাঞ্চ

সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনের সকালে চোটের কারণে মাঠ ছেড়েছেন বাংলাদেশের ওপেনার সাদমান ইসলাম। বাউন্ডারি বাঁচাতে গিয়ে বাঁ পায়ের গোড়ালিতে গুরুতর চোট পান তিনি। মাঠেই যন্ত্রণায় কাতরাতে দেখা যায় তাঁকে। পরে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় এই বাঁহাতি ব্যাটারকে। সাদমান ব্যাট করতে না পারলে বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াবে এটি।
সাদমানের চোটের পর নতুন বলে দারুণ শুরু করেছেন হাসান মাহমুদ। পরপর দুই বলে দুই উইকেট তুলে নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগিয়েছিলেন তিনি। তবে হ্যাটট্রিক বলে জশুয়া বিশপকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেললেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান এই ক্যারিবীয় ব্যাটার। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২৯১ রান।
আলোকস্বল্পতার কারণে প্রথম দিনের খেলা নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়েছিল। তবে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু হয় নির্ধারিত সময়েই। দিনের প্রথম ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই ঘটে সাদমানের চোটের ঘটনা।
মেহেদী হাসান মিরাজের করা ৭৮তম ওভারের প্রথম বলটি লেগ সাইডে ফ্লিক করেন আমির জাঙ্গু। বলটি বাউন্ডারির দিকে এগিয়ে গেলে সেটি আটকাতে দৌড় দেন সাদমান। সীমানার কাছে নিচু হয়ে বল থামানোর চেষ্টা করতেই তাঁর বাঁ পায়ের গোড়ালি মাটিতে আটকে যায়। সঙ্গে সঙ্গেই তীব্র ব্যথায় ছটফট করতে থাকেন তিনি।
দ্রুত মাঠে ছুটে আসেন ফিজিও। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও সাদমানের অবস্থার খুব একটা উন্নতি হয়নি। একপর্যায়ে হাত দিয়ে মুখ ঢেকে যন্ত্রণায় কাতরাতে দেখা যায় তাঁকে। পরে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় এই ওপেনারকে। তাঁর চোটের অবস্থা ও ব্যাটিংয়ে নামতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা।
এর আগে প্রথম দিন টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমে পেসারদের কল্যাণে ভালো শুরু পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে নিয়ে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম দিন ৪ উইকেটে ২৪৫ রান নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল সফরকারীরা।
দ্বিতীয় দিনে ব্যাটিংয়ে নেমে আগের দিনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন অপরাজিত দুই ব্যাটার আমির জাঙ্গু ও জাস্টিন গ্রেভস। পঞ্চম উইকেটে শতরানের জুটিও গড়েন তাঁরা। আগের দিনই সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া জাঙ্গু দ্বিতীয় দিনেও রান বাড়িয়ে যাচ্ছিলেন। তবে নতুন বলে আক্রমণে এসে তাঁদের জুটি ভাঙেন হাসান মাহমুদ।
আগের দিন জাঙ্গুর ফিরতি ক্যাচ ছেড়ে তাঁকে জীবন দিয়েছিলেন হাসান। এবার সেই জাঙ্গুকেই বোল্ড করে প্রতিশোধ নেন বাংলাদেশের এই পেসার। ২১২ বলে ১৩টি চার ও দুটি ছক্কায় ১৩৩ রান করে ফেরেন জাঙ্গু।
পরের বলেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রোস্টন চেজকে সাজঘরে পাঠান হাসান। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে গোল্ডেন ডাকের শিকার হন ক্যারিবীয় অধিনায়ক। পরপর দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেন হাসান।
হ্যাটট্রিক বলে জশুয়া বিশপকেও ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। আম্পায়ার প্রথমে বাংলাদেশের আবেদনে সাড়া দিয়ে এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্ত দিলেও রিভিউ নেন বিশপ। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল তাঁর ব্যাটে লেগেছিল। ফলে হ্যাটট্রিকের অপেক্ষা বাড়ে হাসানের।
ভোরের আকাশ/সু.পা