বদলি নেমে ইব্রাহিমের বাজিমাত, বিস্মিত কোচ ডুলি

ম্যাচের ৬৫ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ইব্রাহিম। মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানেই প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠান তিনি। শেষ পর্যন্ত তাঁর করা একমাত্র গোলেই জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ইব্রাহিমের গোল নিয়ে চমকপ্রদ মন্তব্য করেছেন জাতীয় দলের কোচ থমাস ডুলি।
মূলত ডিফেন্ডার থেকে স্ট্রাইকারের ভূমিকায় খেলতে থাকা বিশ্বনাথ ঘোষের পরিবর্তে মাঠে নামানো হয়েছিল ইব্রাহিমকে। প্রথাগত ফরোয়ার্ড হিসেবে পরিচিত ইব্রাহিমের কাছ থেকে গোলের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার প্রত্যাশা ছিল কোচের। কিন্তু নিজেই গোল করে বসবেন, তা ভাবেননি ডুলি।
ইব্রাহিমের মাঠে নামার পরিকল্পনা নিয়ে ডুলি বলেন, ‘ম্যাচের একপর্যায়ে দৌড়াতে দৌড়াতে বিশ্বনাথ হাঁপিয়ে উঠেছিল। বক্সে বল ধরে রাখতে পারে, এমন একজন খেলোয়াড়ের প্রয়োজন ছিল। তাই বিশ্বনাথকে তুলে ইব্রাহিমকে ১০ নম্বর পজিশনে ও সামিতকে একেবারে ওপরে খেলানোর পরিকল্পনা করি। এতে শামি গোলের সামনে কিছুটা শক্তি সঞ্চয় করে হেড দিয়ে গোল করার চেষ্টা করতে পারবে। আমি ভাবিনি ইব্রাহিম নিজেই গোল করে বসবে। ভেবেছিলাম, সে হয়তো কাউকে দিয়ে গোল করাবে। তবে ভালো ফুটবলাররা এমন মুহূর্ত তৈরি করতে পারে।’
ইব্রাহিমের একমাত্র গোলেই ফর্টিজ এফসি কিরগিজস্তানের ক্লাব মুরাস ইউনাইটেডকে হারায় বাংলাদেশ। তবে এমন পারফরম্যান্সের পরও আসিয়ান কাপের চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা হয়নি তাঁর। তাঁর সতীর্থ রাফায়েল টুডুও ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গোল করেও জাতীয় দলে ডাক পাননি।
এ প্রসঙ্গে নিজের দায় স্বীকার করে ডুলি বলেন, ‘নতুন দেশে এলে সব খেলোয়াড়কে চেনা যায় না। কার কী ধরনের সামর্থ্য রয়েছে এবং কার ওপর ভরসা করা যায়, তা বুঝতে সময় লাগে। অনেক সময় অনুশীলনে কারও সামর্থ্য চোখে পড়ে না, তখন তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। যেমনটা তার ক্ষেত্রে হয়েছিল।’
ম্যাচটির আরেকটি আলোচিত দিক ছিল পরীক্ষিত ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষের স্ট্রাইকার হিসেবে খেলা। ৬৫ মিনিট পর্যন্ত তাঁকে ফরোয়ার্ড পজিশনে খেলিয়েছেন কোচ। এমন ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় ডুলি বলেন, ‘বিশ্বনাথ খেলার ক্ষেত্রে খুবই আক্রমণাত্মক। সেন্ট্রাল ডিফেন্সে তাকে খেলালে পেনাল্টি কিংবা কার্ডের ঝুঁকি থাকে। আমি ভেবেছিলাম, তার বিকল্প হতে পারে রাইট ব্যাক। সেখানেও তাকে মাঝেমধ্যে বক্সে আসতে হয়। ফরোয়ার্ডের নয় নম্বর পজিশনে চোট পাওয়ার ভয় থাকে, কিন্তু বিশ্বনাথ ভয় পায় না। আশা করেছিলাম, সে গোল পাবে। দুর্ভাগ্যবশত পায়নি। তবে তার খেলায় আমি সন্তুষ্ট।’
এদিকে অধিনায়ক তপু বর্মণের শেষ মুহূর্তে দল থেকে ছিটকে যাওয়ার কারণও জানিয়েছেন ডুলি। তিনি বলেন, ‘ওয়ার্মআপে নামার পর সে অস্বস্তি বোধ করে। তার ফিটনেস ছিল ৫০-৫০। খেলতে হলে শতভাগ ফিট কিংবা অন্তত ৮০ ভাগ ফিট থাকতে হবে।’
সব মিলিয়ে তিন পয়েন্ট পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের কোচ। তবে ভুটানের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে বাংলাদেশের এমন পারফরম্যান্স খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। জয় এলেও দলের খেলায় উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে, সেটি স্পষ্ট।
ভোরের আকাশ/সু.পা