তুলা চাষে স্বাবলম্বী হওয়ার বার্তা, কৃষকদের পাশে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, তুলা দেশের অন্যতম লাভজনক অর্থকরী ফসল। তুলা থেকে তেল, সুতা, কাপড়, চিকিৎসা সামগ্রী ও পশুখাদ্যসহ নানা ধরনের পণ্য উৎপাদন করা হয়। দেশের বস্ত্রশিল্পে কাঁচামালের আমদানিনির্ভরতা কমাতে এবং কৃষকদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে স্থানীয় পর্যায়ে তুলা চাষ সম্প্রসারণে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে তুলা চাষ সম্প্রসারণ ও উৎপাদন বৃদ্ধি বিষয়ক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশে পাট চাষের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় তুলা এখন অন্যতম সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে। কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তুলা চাষে উৎসাহিত করা গেলে তারা যেমন বেশি লাভবান হবেন, তেমনি দেশে কাঁচা তুলা আমদানির প্রয়োজনও কমবে।
অনুষ্ঠানে বিরামপুর ও আশপাশের এলাকার কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে উন্নতমানের হাইব্রিড তুলার বীজ, সার, কীটনাশক, পিজিআর, সবজির বীজ এবং উৎপাদন ব্যয় সহায়তায় আর্থিক প্রণোদনা বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে নিম্নআয়ের পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তির চেক এবং খেলাধুলার সামগ্রীও তুলে দেন মন্ত্রী।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তুলা ফসলের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ১০০ জন কৃষকের প্রত্যেককে প্রায় ৮ হাজার টাকা মূল্যের উচ্চফলনশীল হাইব্রিড তুলাবীজ, সার, কীটনাশক ও পিজিআর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৩০০টি শিমুল ও মসলিন চারা বিতরণ করা হয়। উপজেলা কৃষি বিভাগের উদ্যোগে কৃষকদের পারিবারিক পুষ্টি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সবজির বীজ ও সারও সরবরাহ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ১০৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে শিক্ষাবৃত্তির চেক ও খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়, যাতে অর্থের অভাবে তাদের পড়াশোনায় কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়।
বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিনা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম, রংপুর বিভাগের উপপরিচালক জাফর আলী, ঠাকুরগাঁও জোনের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কমল কৃষ্ণ রায়, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল আওয়ালসহ তুলা উন্নয়ন বোর্ড ও কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বিশেষজ্ঞরা জানান, তুলা চাষে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হলেও লাভের সম্ভাবনা বেশি। পাশাপাশি এটি মাটির উর্বরতা রক্ষা ও কৃষকের আয় বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সরকারি প্রণোদনা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা অব্যাহত থাকলে বিরামপুরসহ আশপাশের এলাকায় তুলা চাষ আরও বিস্তৃত হবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।
ভোরের আকাশ/জেআ