স্বাস্থ্য শিক্ষা

অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আদ্-দ্বীন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দপ্তরে ধর্না

ছবি: সংগৃহীত

গত ১০ দিন ধরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন সেখানে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীরা। সমস্যার সমাধান চেয়ে সোমবার (২২ জুন) তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে সেখান থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে পরে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে যান।

সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে উপস্থিত হন। প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে তারা সেখান থেকে বের হয়ে মহাখালীতে অবস্থিত স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে যান।

সরকারি নির্দেশনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের ডিগ্রির কার্যকারিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের অন্য হাসপাতালে সংযুক্তির নির্দেশ দিলেও ভারতের ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশনের (ফরেন মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট লাইসেন্সিয়েট) রেগুলেশনস ২০২১-এর ৪(ক)(২) ধারা অনুযায়ী, একই মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস ও ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন না করলে তা গ্রহণযোগ্য নয় বলে দাবি করছেন শিক্ষার্থীরা।

এ পরিস্থিতিতে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা গত শনিবার ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনে যোগাযোগ করলেও কোনো সমাধান পাননি বলে জানান। পরে তারা আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে উপস্থিত হন। তবে সেখানেও তারা কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বর্তমানে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের পূর্বনির্ধারিত কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট না থাকায় তারা সাক্ষাৎ পাননি।

ডা. খুজাইমা নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে খুবই বিপাকে আছি। দূতাবাসসহ বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে এখানে এসেছি। এখন যদি আমাদের সঙ্গে কেউ কথা না বলে, তাহলে আমরা আরও সমস্যায় পড়ব।”

কাশ্মীর থেকে আসা আরেক শিক্ষার্থী ডা. রেজা বলেন, “বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা মাইগ্রেশন করে অন্য হাসপাতালে যেতে পারছে, কিন্তু আমাদের পক্ষে তা সম্ভব নয়। আমাদের পুরো কারিকুলাম এই হাসপাতালেই সম্পন্ন করতে হবে। আমি আট বছর ধরে এখানে আছি, পড়াশোনা শেষ পর্যায়ে। এখন যদি কার্যক্রম আটকে যায়, তাহলে আমার ডিগ্রি কার্যত অকার্যকর হয়ে যাবে।”

ভোরের আকাশ/সু.পা

অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আদ্-দ্বীন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দপ্তরে ধর্না | স্বাস্থ্য কথা | ভোরের আকাশ