চিকিৎসা ব্যয় বাড়াচ্ছে ওষুধ ও পরীক্ষা : বিআইডিএস গবেষণা

দেশে চিকিৎসা ব্যয়ের বড় অংশই যাচ্ছে ওষুধ ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায়। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) এর এক গবেষণায় উঠে এসেছে, হাসপাতালে ভর্তিকালীন একজন রোগীর মোট চিকিৎসা ব্যয়ের মধ্যে ২৬ শতাংশ ব্যয় হয় ওষুধে এবং ১৭ শতাংশ ব্যয় হয় রোগ নির্ণয় পরীক্ষায়। ফলে স্বাস্থ্যসেবায় ব্যক্তিগত খরচের চাপ ক্রমেই বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিআইডিএস’র জনসংখ্যা অধ্যয়ন বিভাগের ‘বাংলাদেশে অপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন এবং ব্যক্তিগত নিজ খরচে চিকিৎসা ব্যয়ের গতিশীলতা পুনর্বিবেচনা’ শীর্ষক গবেষণায় এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। গবেষণাটি উপস্থাপন করেন রিসার্চ ফেলো ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।
গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশে স্বাস্থ্য সূচকে উন্নতি হলেও চিকিৎসার প্রধান অর্থায়ন এখনো ব্যক্তিগত খরচের ওপর নির্ভরশীল। ২০২৪ সালে স্বাস্থ্যসেবায় ব্যক্তিগত ব্যয়ের হার দাঁড়িয়েছে ৭৯ শতাংশ। এতে নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়ছে এবং অনেকেই প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা নিতে পারছেন না।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, মোট জনসংখ্যার ২২ শতাংশ মানুষ মাসে অন্তত একবার চিকিৎসার প্রয়োজন অনুভব করেন। তবে তাদের মধ্যে প্রায় ১৫ শতাংশ প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা নিতে পারেন না, যা মোট প্রয়োজনের ৬৫ শতাংশের সমান। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় এ সমস্যা আরও বেশি, যেখানে অপূর্ণ চিকিৎসা চাহিদার হার ৬৮ শতাংশ।
জেলা পর্যায়ে নড়াইলে সবচেয়ে বেশি অপূর্ণ চিকিৎসা চাহিদা দেখা গেছে, যা ৮১ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে হবিগঞ্জ (৮০ শতাংশ)। অন্যদিকে সবচেয়ে কম হার দেখা গেছে ফেনীতে, যেখানে তা ১৮ শতাংশ।
চিকিৎসা ব্যয়ের খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, হাসপাতালে ভর্তিকালীন ব্যয়ের ২৬ শতাংশ ওষুধে, ২৩ শতাংশ অস্ত্রোপচারে, ১৭ শতাংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষায়, ১৬ শতাংশ শয্যা ভাড়ায়, ৭ শতাংশ অন্যান্য খাতে এবং ৬ শতাংশ যাতায়াতে ব্যয় হয়। চিকিৎসকের ফি বাবদ ব্যয় হয় মাত্র ৫ শতাংশ।
গবেষণায় আরও বলা হয়, একটি পরিবার গড়ে প্রতি মাসে ৩ হাজার ৪৫৪ টাকা চিকিৎসায় ব্যয় করে, যা মোট পারিবারিক ব্যয়ের ১১ শতাংশ। এর বড় অংশই ওষুধ ও পরীক্ষায় চলে যায়।
এছাড়া দেখা গেছে, দরিদ্র পরিবার তাদের মোট আয়ের প্রায় ৩৫ শতাংশ চিকিৎসায় ব্যয় করে, যেখানে ধনীদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৫ শতাংশ। ফলে স্বাস্থ্য খাতে বৈষম্য ও আর্থিক চাপ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে মনে করছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি।
ভোরের আকাশ/সু.পা



