ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রস্তুত স্বাস্থ্য বিভাগ: বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক

ছবি: সংগৃহীত
ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ মোকাবিলায় চট্টগ্রামের মানুষকে নিরাপদ রাখতে স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বাত্মক প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। তিনি বলেন, ডেঙ্গু এখন জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় হুমকি। এ রোগ প্রতিরোধে সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা মেডিসিনস স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ) সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) নগরের লয়েল রোডে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরে ‘ডেঙ্গু নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার’ শীর্ষক এক সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এমএসএফের সহযোগিতায় সভাটির আয়োজন করা হয়।
ডা. ফজলে রাব্বি বলেন, চট্টগ্রামকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এ জন্য সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জানান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার প্রতি চারটি বাড়ির মধ্যে একটি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে। গত জুন মাসে চট্টগ্রাম বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৪০৫ জন। চলতি জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮৫ জনে। বর্ষা মৌসুমে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান স্বাস্থ্য পরিচালক। তিনি বলেন, ফুলের টব, পানির পাত্র কিংবা যেকোনো স্থানে যেন পানি জমে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ জমে থাকা পানিতেই এডিস মশা বংশবিস্তার করে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচার বাড়ানো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সভায় চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, জুন মাসে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১২২ জন। চলতি জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত তা বেড়ে ১৬৪ জনে পৌঁছেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৬১ জন সিটি করপোরেশন এলাকার, ৭৪ জন উপজেলা পর্যায়ের এবং অন্য জেলা থেকে আসা ২৯ জন।
সভায় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি), চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, এমএসএফসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই ডেঙ্গুর বিস্তার কার্যকরভাবে রোধ করা সম্ভব।
ভোরের আকাশ/সু.পা



