ফুসফুসে ক্যান্সার : কারণ, লক্ষণ ও করণীয়

ছবি: সংগৃহীত
ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে ফুসফুস ক্যান্সার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। চিকিৎসকদের ভাষায় এটি একটি ‘সাইলেন্ট কিলার’, কারণ শুরুতে এর লক্ষণগুলো সাধারণ ঠান্ডা বা কাশির মতো মনে হওয়ায় অনেকেই গুরুত্ব দেন না। অথচ সময়মতো শনাক্ত করা গেলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
ফুসফুস ক্যান্সার কী?
ফুসফুসের কোষ যখন অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে এবং টিউমার তৈরি করে, তখন তাকে ফুসফুস ক্যান্সার বলা হয়। এই কোষগুলো শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা ‘মেটাস্ট্যাসিস’ নামে পরিচিত।
ফুসফুস ক্যান্সারের কারণ
এই রোগের পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে যেমন- ধূমপান সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। প্রায় ৮০-৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে ধূমপানই দায়ী। সিগারেটের ক্ষতিকর রাসায়নিক ফুসফুসের কোষের ক্ষতি করে। এমনকি পরোক্ষ ধূমপানও সমানভাবে ক্ষতিকর। বায়ুদূষণও একটি বড় কারণ। বিশেষ করে বড় শহরগুলোতে বাতাসে থাকা ক্ষুদ্র বিষাক্ত কণা ফুসফুসের ক্ষতি করে। কর্মক্ষেত্রে অ্যাসবেস্টস, আর্সেনিক বা রেডন গ্যাসের সংস্পর্শে থাকলেও ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া বংশগত কারণেও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই রোগের সম্ভাবনা বেশি থাকে।
যে লক্ষণগুলো অবহেলা করা যাবে না
দীর্ঘদিন কাশি থাকা বা কাশি না কমা, কাশির সঙ্গে রক্ত আসা, শ্বাসকষ্ট বা বুক ধড়ফড় করা, বুক বা কাঁধে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি—এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি ঘন ঘন নিউমোনিয়া বা ব্রঙ্কাইটিসও সতর্ক সংকেত হতে পারে।
প্রতিরোধে করণীয়
কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুললে ফুসফুস ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায় যেমন-
ধূমপান সম্পূর্ণভাবে বর্জন করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বায়ুদূষণ থেকে বাঁচতে বাইরে বের হলে ভালো মানের মাস্ক ব্যবহার করা উচিত।
খাদ্যতালিকায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ ফল ও শাকসবজি রাখা প্রয়োজন।
দীর্ঘদিনের ধূমপায়ীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, যেমন চেস্ট এক্স-রে বা লো-ডোজ সিটি স্ক্যান করানো উচিত।
ফুসফুস ক্যান্সার এখন আর পুরোপুরি অনিরাময়যোগ্য নয়। আধুনিক চিকিৎসা যেমন ইমিউনোথেরাপি ও টার্গেটেড থেরাপির মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা। সচেতনতা ও সতর্কতাই পারে এই প্রাণঘাতী রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে।
ভোরের আকাশ/সু.পা



