গ্লকোমা প্রতিরোধে জরুরি নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা

ছবি: সংগৃহীত
গ্লকোমা চোখের এমন একটি রোগ, যেখানে অপটিক স্নায়ু ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে দৃষ্টিশক্তি কমতে শুরু করে এবং একবার ক্ষতি হলে তা আর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে না। সময়মতো রোগ শনাক্ত না হলে গ্লকোমা স্থায়ী অন্ধত্বের কারণ হতে পারে।
চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ (ইন্ট্রাওকুলার প্রেসার) বেড়ে যাওয়া, বংশগত কারণ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত স্থূলতা ও দীর্ঘদিন স্টেরয়েড ব্যবহারসহ বিভিন্ন কারণে গ্লকোমার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি।
যাদের নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা করা উচিত—
১. চোখে আঘাত বা অস্ত্রোপচারের ইতিহাস থাকলে : অতীতে চোখে আঘাত পাওয়া বা ছানিসহ অন্য কোনো অস্ত্রোপচার হয়ে থাকলে গ্লকোমার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। তাই নিয়মিত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
২. পরিবারের কারও গ্লকোমা থাকলে : গ্লকোমার ক্ষেত্রে বংশগত প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। বাবা-মা, ভাই-বোন বা নিকটাত্মীয়ের এই রোগ থাকলে ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
৩. ৪০ বছরের বেশি বয়সীরা : বয়স বাড়ার সঙ্গে গ্লকোমার ঝুঁকিও বাড়ে। তাই ৪০ বছর পার হওয়ার পর প্রতি দুই বছর অন্তর এবং ৬০ বছরের পর প্রতি বছর অন্তত একবার চোখ পরীক্ষা করানো উচিত।
৪. ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা : ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ গ্লকোমার ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি থাকলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।
৫. চোখের চাপ বেশি থাকলে : চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হলে গ্লকোমায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
৬. দীর্ঘদিন স্টেরয়েড ব্যবহারকারীরা : আই ড্রপ, ইনহেলার বা ট্যাবলেট—যে কোনো ধরনের স্টেরয়েড দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে চোখের চাপ বেড়ে যেতে পারে। তাই এসব রোগীর নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা জরুরি।
৭. ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে : ধূমপান ও অ্যালকোহল অপটিক স্নায়ুর ক্ষতি করতে পারে, যা গ্লকোমার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এসব অভ্যাস থাকলে নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করা উচিত।
৮. মাইগ্রেন বা ঘন ঘন মাথাব্যথায় ভুগলে : গবেষণায় দেখা গেছে, মাইগ্রেন বা মাথায় রক্ত সঞ্চালনজনিত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের গ্লকোমার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
৯. উচ্চ মায়োপিয়া বা হাইপারোপিয়া থাকলে : যাদের চশমার পাওয়ার (-৬ বা +৬-এর বেশি), তাদের চোখের গঠনে কিছু পরিবর্তন থাকে। ফলে গ্লকোমার ঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
গ্লকোমা প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে রোগের অগ্রগতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের অবহেলা না করে নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা করানোই হতে পারে দৃষ্টিশক্তি রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
ভোরের আকাশ/সু.পা



