হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কয়েকটি লক্ষণ

ছবি: সংগৃহীত
নারীদের হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বর্তমানে একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা। তবে অনেক ক্ষেত্রেই এই সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণগুলো আমাদের নজর এড়িয়ে যায়। এটি কোনো আকস্মিক পরিবর্তন নয়, বরং ধীরে ধীরে আমাদের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলতে শুরু করে। সম্প্রতি ভারতীয় পুষ্টিবিদ এবং স্বাস্থ্য প্রশিক্ষক রেনু রাখেজা নারীদের হরমোনের ভারসাম্যহীনতার এমন কিছু সূক্ষ্ম লক্ষণের কথা তুলে ধরেছেন, যা সাধারণত আমরা সাধারণ ক্লান্তি বা বয়সজনিত সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাই।
অনিয়মিত ঘুম প্রাথমিক লক্ষণ
ঘুমের অনিয়ম হলো হরমোনের ভারসাম্যহীনতার অন্যতম প্রধান প্রাথমিক লক্ষণ। অনেকেই মনে করেন বয়স, কর্মব্যস্ততা বা মানসিক চাপের কারণে ঘুমের সমস্যা হচ্ছে, কিন্তু এটি আসলে শরীরের অভ্যন্তরীণ হরমোন পরিবর্তনের সংকেত হতে পারে।
উল্লেখিত লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন হতে হবে
পাতলা ঘুম: পর্যাপ্ত সময় বিছানায় থাকলেও যদি গভীর ঘুম না হয়।
ভোররাত ৩টায় ঘুম ভাঙা: রাতে হঠাৎ ৩টার দিকে ঘুম ভেঙে যাওয়া এবং পরে আর ঘুমাতে না পারা হরমোনের সমস্যার একটি বড় লক্ষণ।
মর্নিং ফ্যাটিগ: সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও শরীর সতেজ না লাগা বা প্রচণ্ড ক্লান্তি অনুভব করা।
বারবার প্রস্রাবের বেগ: রাতে বারবার টয়লেটে যাওয়ার জন্য ঘুম ভাঙা।
পুষ্টিবিদ সতর্ক করে বলেন, ‘একবার ঘুম ব্যাহত হলে তার প্রভাব শরীরের সবকিছুর ওপর পড়ে।’ এটি মেজাজ খিটখিটে হওয়া থেকে শুরু করে ওজন বৃদ্ধি, উদ্বেগ এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ভারসাম্য ফেরানোর উপায় হরমোনের এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে কেবল ওষুধ নয়, জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা জরুরি। পুষ্টিবিদ নিচের পরামর্শগুলো দিয়েছেন :
প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন: জাঙ্ক ফুড, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ও চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। ডায়েটে পর্যাপ্ত প্রোটিন এবং প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশজাতীয় খাবার রাখতে হবে।
শারিরীক ব্যায়াম: প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটা, যোগব্যায়াম, সাঁতার বা ওয়েট ট্রেনিংয়ের মতো ব্যায়াম করতে হবে।
চিন্তামুক্ত থাকা: মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত ধ্যান (Meditation) এবং স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখতে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম (Breathing exercises) করা প্রয়োজন।
চা-কফি বর্জন: সারাদিনে প্রচুর পানি পান করতে হবে এবং চা-কফির অভ্যাস কমিয়ে আনতে হবে।
ডিজিটাল ডিটক্স: ঘুমের গুণমান বাড়াতে শোয়ার আগে মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিন দেখা বন্ধ করতে হবে।
যেকোনো শারীরিক জটিলতা বা হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বেশি মনে হলে নিজে নিজে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিশেষজ্ঞ স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শরীরের পরিবর্তনের কারণ সঠিকভাবে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সাপ্লিমেন্ট বা চিকিৎসা গ্রহণ করাই সুস্থ থাকার সঠিক উপায়। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
ভোরের আকাশ/সু.পা



