স্বাস্থ্য শিক্ষা

হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উপায়

ছবি: সংগৃহীত

অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা এবং খাদ্যাভ্যাসের কারণে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া এখন একটি সাধারণ সমস্যা। কোলেস্টেরল মূলত এক ধরনের চর্বি, যা রক্তে মিশে থাকে। এর মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে রক্তনালীতে ব্লক তৈরি হয়, যা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এটিকে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয় কারণ অনেক সময় উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল থাকলেও বাইরে থেকে কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না।

যেসব লক্ষণে বুঝবেন কোলেস্টেরল বাড়ছে-

১. কোনো পরিশ্রম ছাড়াই সারাক্ষণ ক্লান্তি বা দুর্বল অনুভব করা। ২. সামান্য হাঁটাহাঁটি বা সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় বুক ধড়ফড় করা বা নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া। ৩. পায়ের পেশিতে টান ধরা বা প্রায়ই ঝিঁঝিঁ লাগা রক্ত চলাচলে বাধার লক্ষণ হতে পারে। ৪.  চোখের পাতার ওপর বা কোণে ছোট ছোট হলদেটে ফোলা দাগ বা পিণ্ড দেখা দেওয়া (একে জ্যানথেলাসমা বলা হয়)। ৫. উচ্চ রক্তচাপের সাথে কোলেস্টেরল যুক্ত হলে মাঝে মাঝে ঘাড়ের পেছনে ব্যথা বা মাথা ঘোরার সমস্যা হতে পারে। ৬. শারীরিক লক্ষণের ওপর নির্ভর না করে বছরে অন্তত একবার 'লিপিড প্রোফাইল' (Lipid Profile) নামক রক্ত পরীক্ষা করা সবচেয়ে নিরাপদ। ৭. অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের অভাব, ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস, বংশগত কারণ বা ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগ।

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে করণীয়-

ক.) প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন

রেড মিট (গরু বা খাসির মাংস), ডালডা ও ট্রান্স ফ্যাট জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। এর বদলে ওটস, বার্লি, ইসবগুলের ভুষি এবং প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাকসবজি খান। ওমেগা-৩ যুক্ত সামুদ্রিক মাছ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।

খ.) ওজন ঠিক রাখা

শরীরের উচ্চতা অনুযায়ী ওজন সঠিক মাত্রায় রাখা জরুরি। পেটের চর্বি বা মেদ দ্রুত কমানোর চেষ্টা করুন।

গ.) ব্যায়াম

প্রতিদিন অন্তত ৩০-৪০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা ব্যায়াম করা শরীরের 'গুড কোলেস্টেরল' (HDL) বাড়াতে সাহায্য করে।

ঘ.) তেল ব্যবহারে সতর্কতা

রান্নায় সয়াবিন তেলের পরিবর্তে পরিমিত পরিমাণে অলিভ অয়েল বা রাইস ব্র্যান অয়েল ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।

ঙ.) ফল ও বাদাম

 প্রতিদিন এক মুঠো কাঠবাদাম বা আখরোট এবং সাইট্রাস জাতীয় ফল (লেবু, কমলা, মাল্টা) ধমনীর স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে মাত্রা বেশি হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উপায় | স্বাস্থ্য কথা | ভোরের আকাশ