হৃদরোগের নীরব লক্ষণ হতে পারে শ্বাসকষ্ট

ছবি: সংগৃহীত
আপনি হয়তো সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠছেন, হঠাৎ অনুভব করলেন স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি হাঁপিয়ে উঠেছেন। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর মনে হলো, হয়তো ক্লান্তি বা শরীরের ফিটনেস কমে যাওয়ার কারণেই এমনটা হয়েছে। আমাদের অনেকেই দৈনন্দিন জীবনের এই ধরনের শ্বাসকষ্ট বা অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠাকে সাধারণ ক্লান্তি, কাজের চাপ, বয়স বৃদ্ধি কিংবা ওজন বাড়ার ফল বলে ধরে নিয়ে গুরুত্ব দিই না। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, এই অবহেলাই কখনও কখনও মারাত্মক হৃদরোগের পূর্বাভাস হতে পারে।
ভারতের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রাজেশ রজনীর মতে, শ্বাসকষ্টের সমস্যা অনেক সময় ধীরে ধীরে শরীরে প্রভাব ফেলে, যা সহজে চোখে পড়ে না। আগে যে ব্যক্তি অনায়াসে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে পারতেন, এখন হয়তো তিনি অবচেতনভাবেই লিফট ব্যবহার করতে শুরু করেছেন। আবার আগে যত দূর হাঁটলে কোনো সমস্যা হতো না, এখন তার চেয়ে কম দূরত্ব হাঁটলেই দম ফুরিয়ে আসছে। এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের পক্ষ থেকে দেওয়া সতর্ক সংকেত হতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের শ্বাসকষ্ট বা ‘ডিসপনিয়া’ রয়েছে, তাদের হৃদরোগ বা ফুসফুসজনিত রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় ২ থেকে ৯ গুণ বেশি।
শ্বাসকষ্টের পেছনে হৃদরোগের সম্ভাব্য কারণ
হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন জটিলতার কারণে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
ধমনীতে ব্লক: হৃদপিণ্ডের ধমনীতে চর্বি জমে সরু হয়ে গেলে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে শারীরিক পরিশ্রমের সময় প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিয়ে শ্বাসকষ্ট হতে পারে।
হার্টের ভালভের সমস্যা: হার্টের ভালভ ঠিকমতো কাজ না করলে রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে, যার ফলে ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।
হৃদস্পন্দনের অনিয়ম: অনিয়মিত হৃদস্পন্দন হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে, যা শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে।
হৃদপেশির দুর্বলতা: হার্টের মাংসপেশি দুর্বল হয়ে গেলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছায় না। এর ফলেও শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।
নারীদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা
হৃদরোগের উপসর্গ পুরুষ ও নারীদের ক্ষেত্রে এক রকম নাও হতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে অনেক সময় বুকে ব্যথার পরিবর্তে শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা কিংবা বমি বমি ভাব হৃদরোগের প্রধান উপসর্গ হিসেবে দেখা যায়। তাই এসব লক্ষণকে অবহেলা করা উচিত নয়।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন?
নিয়মিত কাজকর্মের সময় যদি ক্রমাগত শ্বাসকষ্ট অনুভূত হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত জরুরি বিভাগে যেতে হবে—
হঠাৎ তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়া।
রাতে ঘুমের মধ্যে দমবন্ধ হয়ে আসা বা হাঁপিয়ে জেগে ওঠা।
শুয়ে থাকলে শ্বাস নিতে বেশি কষ্ট হওয়া।
নখ বা ঠোঁট নীলচে হয়ে যাওয়া।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
ডা. রাজেশ রজনীর মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে উপসর্গ শনাক্ত করা গেলে বড় ধরনের জটিলতা এড়ানো এবং দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব। তাই শরীরের ছোটখাটো পরিবর্তনকে বয়স বা ক্লান্তির অজুহাতে এড়িয়ে না গিয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কারণ, আপনার শ্বাসকষ্ট হয়তো হৃদযন্ত্রের পাঠানো একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
ভোরের আকাশ/সু.পা



