স্বাস্থ্য শিক্ষা

‘ইডিমা’ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা জরুরি

ছবি: সংগৃহীত

শরীরের কোষ বা টিস্যুতে অতিরিক্ত পানি জমে ফুলে ওঠার অবস্থাকে ‘ইডিমা’ বলা হয়। সাধারণত পায়ের পাতা, গোড়ালি ও পায়ে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। তবে হাত, মুখ কিংবা পেটেও ‘ইডিমা’ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইডিমা একটি সাধারণ স্বাস্থ্যগত সমস্যা, যা বিভিন্ন রোগ বা শারীরিক জটিলতার কারণে দেখা দিতে পারে। হৃদরোগ, লিভার বা কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এ ঝুঁকি বেশি থাকে। এছাড়া ৬৫ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণ, গর্ভবতী নারী এবং দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কাজ করা ব্যক্তিরাও ইডিমায় আক্রান্ত হতে পারেন।

ইডিমা সাধারণত দুই ধরনের। এর মধ্যে স্থানীয় (লোকালাইজড) ইডিমা শরীরের নির্দিষ্ট অংশে দেখা যায় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে আঘাত বা প্রদাহজনিত কারণে হয়। অন্যদিকে সাধারণ বা পদ্ধতিগত (সিস্টেমিক) ইডিমা শরীরের বৃহৎ অংশে ছড়িয়ে পড়ে, যা গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

ইডিমার সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে শরীরের কোনো অংশ ফুলে যাওয়া, আক্রান্ত স্থানের চামড়া টানটান ও চকচকে হয়ে যাওয়া এবং সেখানে অস্বস্তি বা ব্যথা অনুভূত হওয়া।

বিশেষজ্ঞরা জানান, দীর্ঘ সময় একটানা বসে বা দাঁড়িয়ে থাকা, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ, মদ্যপান, হৃদযন্ত্র বা কিডনির কার্যকারিতা হ্রাসসহ বিভিন্ন কারণে ইডিমা হতে পারে।

ইডিমার চিকিৎসা মূলত এর অন্তর্নিহিত কারণের ওপর নির্ভর করে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। খাবারে লবণের পরিমাণ কমানো, নিয়মিত হাঁটাচলা করা এবং আক্রান্ত অঙ্গ উঁচুতে রাখার মতো অভ্যাস উপকার দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, সময়মতো চিকিৎসা না নিলে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই শরীরের একাধিক অংশ ফুলে গেলে, বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট বা তীব্র ব্যথা থাকলে, দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

ভোরের আকাশ/সু.পা

‘ইডিমা’ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা জরুরি | স্বাস্থ্য কথা