কেন পিরিয়ডের আগের তলপেটে ব্যথা হয়? বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা

ছবি: সংগৃহীত
মাসিক বা পিরিয়ডের আগে ও চলাকালে তলপেটে ব্যথা, কোমর ব্যথা, মাথাব্যথা কিংবা অস্বস্তির মতো সমস্যা অনেক নারীরই পরিচিত অভিজ্ঞতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উপসর্গের বেশিরভাগই শরীরের স্বাভাবিক হরমোনগত পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনের প্রভাব : পিরিয়ডের আগে শরীরে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন নামের এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এটি জরায়ুর পেশিকে সংকুচিত হতে সাহায্য করে, যাতে জরায়ুর আস্তরণ বেরিয়ে আসতে পারে। এই সংকোচনের কারণেই অনেকের তলপেটে ক্র্যাম্প বা ব্যথা অনুভূত হয়।
হরমোনের পরিবর্তন : মাসিক শুরুর আগে শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমে যায়। এই পরিবর্তনের ফলে জরায়ু মাসিকের জন্য প্রস্তুত হয় এবং জরায়ুর আস্তরণ ঝরতে শুরু করে। এ সময় অনেক নারীর তলপেটে ব্যথা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
প্রি-মেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম (পিএমএস) : পিরিয়ড শুরুর এক থেকে দুই সপ্তাহ আগে অনেক নারী প্রি-মেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম (পিএমএস)-এ ভোগেন। এ সময় তলপেটে ব্যথা, পেট ফোলা, ক্লান্তি, মেজাজের পরিবর্তন, স্তনে ব্যথা এবং মাথাব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
শরীরের স্বাভাবিক প্রস্তুতি : পিরিয়ডের আগে তলপেটে হালকা ব্যথা অনেক সময় শরীরের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রস্তুতির অংশ। মাসিক শুরু হওয়ার আগে জরায়ুর বিভিন্ন পরিবর্তনের কারণেও এ ধরনের অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে।
মানসিক চাপের প্রভাব : অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা স্ট্রেসও পিরিয়ডের আগে ব্যথার তীব্রতা বাড়িয়ে দিতে পারে। স্ট্রেসের কারণে হরমোনের ভারসাম্যে পরিবর্তন ঘটে, যা তলপেটের ব্যথা ও অস্বস্তিকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পিরিয়ডের আগে বা চলাকালে হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার ব্যথা সাধারণত স্বাভাবিক। তবে ব্যথা যদি অত্যন্ত তীব্র হয়, দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে বা অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণের সঙ্গে দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ভোরের আকাশ/সু.পা



