মানসিক রোগের সমাধান বিয়ে নয় প্রয়োজন সঠিক চিকিৎসা

ছবি: সংগৃহীত
সমাজে দীর্ঘদিন ধরে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে—মানসিক রোগে আক্রান্ত কাউকে বিয়ে দিলেই নাকি তার রোগ সেরে যায়। এই বিশ্বাসের কারণে অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পরিবর্তে দ্রুত বিয়ের ব্যবস্থা করতে চায়। তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বিয়ে কখনোই মানসিক রোগের চিকিৎসা বা বিকল্প সমাধান হতে পারে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যথাযথ চিকিৎসা ছাড়া মানসিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির বিয়ে হলে নতুন সংসারের দায়িত্ব, সামাজিক প্রত্যাশা এবং মানসিক চাপ রোগকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে রোগের তথ্য গোপন রেখে বিয়ে দেওয়ার ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অবিশ্বাস, ভুল বোঝাবুঝি, পারিবারিক কলহ, এমনকি বিচ্ছেদের মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়।
এ ছাড়া, একজন মানসিক রোগীর অবস্থা সম্পর্কে না জানিয়ে অন্য একজনের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করা নৈতিক ও সামাজিকভাবে দায়িত্বহীনতার পরিচয়। এতে শুধু রোগী নন, তার জীবনসঙ্গীকেও নানা মানসিক ও পারিবারিক সংকটের মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে বৈবাহিক ও সামাজিক চাপ মানসিক সমস্যাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
তবে মানসিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা বিয়ে করতে পারবেন না—এমন ধারণাও সঠিক নয়। চিকিৎসকদের মতে, সঠিক চিকিৎসা, নিয়মিত ওষুধ সেবন এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে আসার পর পরিকল্পিতভাবে বিয়ে করলে তারাও সুস্থ ও স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবন গড়ে তুলতে পারেন।
এ ক্ষেত্রে রোগীর শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা, বৈবাহিক দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা, অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্বাবলম্বিতা এবং পারিবারিক প্রস্তুতি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিয়ের আগে রোগ সম্পর্কে জীবনসঙ্গীকে খোলামেলাভাবে জানানো, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা, পরিবারের সহযোগিতা নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সফল দাম্পত্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিয়ে কোনো অলৌকিক নিরাময় নয়; বরং এটি দুই সুস্থ ও দায়িত্বশীল মানুষের পারস্পরিক আস্থা ও বোঝাপড়ার বন্ধন। তাই মানসিক রোগকে কুসংস্কার বা লজ্জার বিষয় হিসেবে না দেখে একটি চিকিৎসাযোগ্য ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য স্বাস্থ্যসমস্যা হিসেবে গ্রহণ করা প্রয়োজন। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা এবং পরিবারের দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত একজন মানুষ ও একটি পরিবার—উভয়কেই বড় ধরনের সংকট থেকে রক্ষা করতে পারে।
ভোরের আকাশ/সু.পা



