মেনিনজাইটিস : কারণ, লক্ষণ ও করণীয়

ছবি: সংগৃহীত
মানুষের মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ডের চারপাশে থাকা সূক্ষ্ম টিস্যুর আবরণকে বলা হয় মেনিনজেস। এই আবরণে সংক্রমণ হয়ে প্রদাহ সৃষ্টি হলে তাকে বলা হয় মেনিনজাইটিস—একটি গুরুতর ও কখনও প্রাণঘাতী রোগ। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোসার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. হারাধন দেবনাথ জানিয়েছেন, মেনিনজাইটিস মূলত বিভিন্ন অণুজীবের সংক্রমণে হয়ে থাকে।
কেন হয় মেনিনজাইটিস :
মেনিনজাইটিসের প্রধান কারণ ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস। ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস সাধারণত নিসেরিয়া মেনিনজাইটিডিস বা স্ট্রেপ্টোকক্কাস নিউমোনি দ্বারা হয় এবং এটি ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে ছড়াতে পারে। অন্যদিকে ভাইরাল মেনিনজাইটিস হাঁচি-কাশি বা স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া বিরল ক্ষেত্রে পরজীবী (প্যারাসাইট) বা ছত্রাক (ফাঙ্গাস) থেকেও এই রোগ হতে পারে, যা অনেক সময় প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। বিশেষ করে এইডস, ডায়াবেটিস বা ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ফাঙ্গাল সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণ ছাড়াও মেনিনজাইটিস হতে পারে। যেমন—ক্যানসার, লুপাস, নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, মাথায় আঘাত বা মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর।
কীভাবে বুঝবেন : প্রাথমিকভাবে মেনিনজাইটিস শনাক্ত করা কঠিন। অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত অবনতি ঘটে—২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যুঝুঁকিও থাকতে পারে। শিশু (৫ বছরের কম) এবং কিশোর (১৫–১৯ বছর) বয়সীদের ঝুঁকি বেশি।
সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে :
- জ্বরের সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা
- ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া
- বমি বা বমিভাব
- স্মৃতিভ্রম
- আলো সহ্য করতে না পারা
- অস্বস্তি ও তন্দ্রাচ্ছন্নতা
- শরীরে বিশেষ দাগ বা র্যাশ
- খিঁচুনি বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
রোগ নির্ণয়ের জন্য রক্ত পরীক্ষা (ব্লাড কালচার), সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড পরীক্ষা (লাম্বার পাংচার) এবং প্রয়োজনে সিটি স্ক্যান করা হয়।
করণীয় ও চিকিৎসা :
- মেনিনজাইটিস একটি জরুরি চিকিৎসাযোগ্য রোগ। লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
- ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিসে দ্রুত শিরাপথে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়
- ভাইরাল মেনিনজাইটিসে সাধারণত সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়
- ফাঙ্গাল মেনিনজাইটিসে দীর্ঘদিন উচ্চমাত্রার অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ প্রয়োজন হয়
চিকিৎসকদের মতে, ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিসে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সময় খুবই সীমিত—প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা শুরু করা জরুরি।
প্রতিরোধ : মেনিনজাইটিস প্রতিরোধে টিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে মেনিনগোকক্কাল ভ্যাকসিন (গ্রুপ A, C, W135 ও Y) গ্রহণ করলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।



