স্বাস্থ্য শিক্ষা

অফিসে গেলেই হাঁচি-মাথাব্যথা, ক্লান্তি? কারণ হতে পারে ‘সিক বিল্ডিং সিন্ড্রোম’

ছবি: সংগৃহীত

বাড়িতে সুস্থ থাকলেও অফিসে গেলেই যদি হাঁচি, চোখ জ্বালাপোড়া, ত্বকে চুলকানি, মাথাব্যথা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি শুরু হয়, তাহলে সেটিকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ‘সিক বিল্ডিং সিন্ড্রোম’ (Sick Building Syndrome) নামের একটি স্বীকৃত স্বাস্থ্যসমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এ অবস্থায় ভবনের ভেতরে অবস্থান করলে উপসর্গ দেখা দেয়, আবার বাইরে বেরিয়ে এলে তা অনেকটাই কমে যায়।

আমেরিকার এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সি (EPA)-এর তথ্যের ভিত্তিতে Self.com-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট ভবনে দীর্ঘ সময় অবস্থানের কারণে যদি শারীরিক অস্বস্তি তৈরি হয় এবং ভবন থেকে বের হওয়ার পর তা কমে যায়, তাহলে সেটিকে ‘সিক বিল্ডিং সিন্ড্রোম’ বলা হয়।

যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে যেসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
মনোযোগ কমে যাওয়া (ব্রেইন ফগ) ও অতিরিক্ত ক্লান্তি।
মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব এবং তীব্র মাথাব্যথা বা মাইগ্রেন।
বারবার হাঁচি, চোখ জ্বালাপোড়া, ত্বকে র‌্যাশ বা চুলকানি।
বুক জ্বালাপোড়া বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স।

এসব উপসর্গের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, ভবন থেকে বের হয়ে খোলা পরিবেশে গেলে অনেক ক্ষেত্রেই তা দ্রুত কমে আসে।

কেন হয় এই সমস্যা?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ১৯৮০-এর দশকেই ‘সিক বিল্ডিং সিন্ড্রোম’-এর বিষয়টি উল্লেখ করে। সংস্থাটির মতে, ভবনের ভেতরের বাতাসের নিম্নমান, অপর্যাপ্ত বায়ু চলাচল, অতিরিক্ত শব্দ, অনুপযুক্ত আলো এবং বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান এ সমস্যার জন্য দায়ী হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের Hackensack Meridian School of Medicine-এর অ্যালার্জি ও ইমিউনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. লিওনার্ড বিলোরি বলেন, “আসলে অসুস্থ ব্যক্তি নয়, সমস্যাটি ভবনের পরিবেশে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সমস্যার পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করতে পারে—
সেন্ট্রাল এসি, কার্পেট বা দেয়ালে জমে থাকা ছত্রাক (মোল্ড), ধুলাবালি ও ব্যাকটেরিয়া।
নতুন কার্পেট, রং, আঠা বা কাঠের আসবাব থেকে নির্গত ফর্মালডিহাইড ও অন্যান্য উদ্বায়ী জৈব যৌগ (VOC)।
পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশনের অভাব, জানালাবিহীন কক্ষ এবং অতিরিক্ত তীব্র কৃত্রিম আলো।

নারীরা কেন বেশি ঝুঁকিতে?
২০২৫ সালে Buildings সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণাসহ বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে ‘সিক বিল্ডিং সিন্ড্রোম’-এর উপসর্গ বেশি দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর সম্ভাব্য কারণগুলো হলো—
অ্যালার্জেন, তাপমাত্রা ও আলোর প্রতি তুলনামূলক বেশি সংবেদনশীলতা।
রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা ও অটোইমিউন প্রতিক্রিয়ার ভিন্নতা।
অতিরিক্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে নারীদের বেশি অস্বস্তি অনুভব করা।

ঝুঁকি কমাতে যা করবেন
বিশেষজ্ঞরা অফিসের পরিবেশজনিত এ সমস্যা কমাতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন—
পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সম্ভব হলে জানালার কাছাকাছি বসা।
তীব্র ফ্লুরোসেন্ট আলো কমানোর জন্য অফিস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা।
ডেস্ক নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং ধুলাবালি জমতে না দেওয়া।

প্রতি এক থেকে দেড় ঘণ্টা পরপর কয়েক মিনিটের জন্য ডেস্ক ছেড়ে হাঁটা এবং খোলা বাতাসে সময় কাটানো।
কোন সময় বা অফিসের কোন স্থানে উপসর্গ বেশি হচ্ছে, তা নোট করে রাখা। এতে সমস্যার উৎস শনাক্ত করা সহজ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অফিসে নিয়মিত এমন সমস্যা দেখা দিলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা মানবসম্পদ (এইচআর) বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। প্রয়োজন হলে কর্মপরিবেশ পরিবর্তন, অন্য স্থানে বসার ব্যবস্থা বা ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর মতো বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা করা যেতে পারে।

সচেতনতা: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র সাধারণ স্বাস্থ্যসচেতনতার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সমস্যা, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার জন্য অবশ্যই একজন নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ভোরের আকাশ/সু.পা

অফিসে গেলেই হাঁচি-মাথাব্যথা, ক্লান্তি? কারণ হতে পারে ‘সিক বিল্ডিং সিন্ড্রোম’ | স্বাস্থ্য কথা