স্বাস্থ্য শিক্ষা

ওজন নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি জরুরি ব্যায়াম ও ঘুম

ছবি: সংগৃহীত

অনেকের ধারণা, খাবার কম খেলেই ওজন কমে যাবে। তবে বাস্তবে দেখা যায়, অনেকেই স্বাভাবিকের তুলনায় কম খাওয়ার পরও ওজন বাড়ার সমস্যায় ভোগেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে শুধু অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ নয়, শরীরের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় ও জীবনযাপনসংক্রান্ত কারণও দায়ী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাকক্রিয়ার গতি কমে যাওয়া। বয়স বৃদ্ধি, জিনগত বৈশিষ্ট্য কিংবা হরমোনের পরিবর্তনের কারণে শরীর আগের তুলনায় কম ক্যালরি পোড়ায়। ফলে অতিরিক্ত শক্তি চর্বি হিসেবে শরীরে জমতে থাকে।

এ ছাড়া পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম না করা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসও ওজন বাড়ার ঝুঁকি বাড়ায়। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়। অন্যদিকে দীর্ঘ সময় মানসিক চাপে থাকলে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে বিশেষ করে পেটের চারপাশে চর্বি জমার প্রবণতা বাড়তে পারে।

কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও ওজন বাড়তে পারে। অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, অ্যান্টিহিস্টামিন এবং স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ দীর্ঘদিন সেবনের ফলে অনেকের ওজন বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে হাইপোথাইরয়েডিজম বা নারীদের পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস)-এর মতো হরমোনজনিত সমস্যাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শুধু খাবারের পরিমাণ কমানো নয়, খাদ্যের গুণগত মানের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি, কোমল পানীয় ও পরিশোধিত আটা বা সাদা রুটি কম খেয়ে খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, পূর্ণ শস্য, মাছ, ডাল এবং চর্বিহীন প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখতে হবে।

এর পাশাপাশি প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট নিয়মিত শরীরচর্চা, ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এসব পরিবর্তনের পরও যদি ওজন অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে নিজে নিজে চিকিৎসা না করে দ্রুত একজন চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ বলে মনে করছেন তারা।

ভোরের আকাশ/সু.পা

ওজন নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি জরুরি ব্যায়াম ও ঘুম | স্বাস্থ্য কথা